প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা করে মামলা, ৩ বছর পর নিজেই ফাঁসলেন!
Advertisement
কিশোরগঞ্জ ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
গ্রেফতার মামলার বাদী চম্পা (৪৮)। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজের মা হালিমাকে (৬৫) হত্যার অভিযোগে দীর্ঘ ৩ বছর ৫ মাস পর নিজেই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে অন্তরীণ হলেন মেয়ে ও মামলার বাদী চম্পা (৪৮)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে আটক হয়ে কার্যবিধির ১৬১ ধারায় এবং কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আদালতে দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ১৮ আগস্ট থেকে কারা অন্তরীণ হয়েছেন চম্পা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে প্রাপ্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্রিপ গ্রামের হালিমা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পরদিন ১৪ মার্চ বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ উত্তরে একটি পতিত জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের মাথার অংশ মাটিতে পোঁতা ছিল। গলায় সাদা রশি প্যাঁচানো এবং মুখে রক্তাক্ত জখমেরও চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে চম্পা বাদী হয়ে প্রতিবেশী বিল্লালসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা গ্রহণ করে।
পিবিআই কিশোরগঞ্জের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে মামলার বাদী চম্পার কথাবার্তায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ জমি কেনেন। তবে ওই জমির কোনো দলিল ছিল না। পরে বিল্লাল জমিটি দুলাল নামের আরেক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর দুলাল হালিমার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা করেন। এর জেরে হালিমাও বিল্লাল ও দিলুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
তিনি বলেন, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিল্লাল হালিমাকে মারধর করেন। পরে হালিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন চম্পা সহযোগীদের সঙ্গে পরামর্শ করে মাকে হত্যা করে ওই হত্যাকাণ্ডের দায় প্রতিপক্ষ বিল্লালদের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা করেন। এতে জমিটি পাওয়ার পথ সহজ হবে বলে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে চম্পা ও তার সহযোগীরা হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হালিমাকে মারামারির বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাকে হত্যা করে লাশের মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। পরদিন চম্পা নিজেই বাদী হয়ে বিল্লালসহ অন্যদের আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে পিবিআইয়ের পরিদর্শক আশরাফুল আলম, পরিদর্শক খাইরুল বাসার ও পরিদর্শক নবী হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

-6a871f474978a.jpg)