থানা থেকে দুই আ.লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন যুবশক্তি নেতা
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
দেবিদ্বার থানা। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার দেবিদ্বার থানায় শালিস করতে এসে পুলিশের হাতে আটক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুব শক্তির দেবিদ্বার উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুহতাদির যারিফ সিক্ত।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিনগত রাতে দেবিদ্বার থানায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে দেবিদ্বার থানায় একটি শালিসে অংশ নিতে এলে সুবিল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হানিফ সরকার এবং রাগুরামপুর গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেবকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের থানা হাজতে রাখা হয়।
ঘটনার পর পুলিশের সঙ্গে যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির নেতাদের দফায় দফায় বৈঠকের পর রাতে মুচলেকা নিয়ে যুবশক্তি নেতা মুহতাদির যারিফ সিক্তের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে আটক আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্ত্বেও হানিফ সরকার ও মোতালেব বর্তমানে এনসিপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তারা এনসিপির স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায়, এমনকি থানায় গিয়েও বিভিন্ন শালিসে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে যুবশক্তি নেতা মুহতাদির যারিফ সিক্ত বলেন, নির্বাচনের সময় ওরা আমাদের সঙ্গেই কাজ করেছে এবং এখনো তারা আমাদের সঙ্গে আছে।
আটক ওই নেতারা আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছে কিনা জানতে চাইলে মুহতাদির যারিফ সিক্ত বলেন, পদত্যাগ করেছে কিনা এটা বলতে পারছি না। তারা ওই দলে ছিল, এখন কোথায় যাবে? এছাড়া আমরা নতুন করে কোথায় মানুষ পাব? তাদের নামে কোনো মামলাও নেই।
দেবিদ্বার থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, সুবিল ইউনিয়নের দুই নেতাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে অ্যাডভোকেট সিক্তের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

