স্বামীকে নিজের কিডনি দান, বাঁচাতে না পেরে পাগলপ্রায় আকলিমা
Advertisement
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
দেলোয়ার হোসেন ও আকলিমা বেগম দম্পতি। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভালোবাসার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আকলিমা বেগম ও দেলোয়ার হোসেন দম্পতি। ভালোবাসার নিদর্শন হিসাবে নিজের কিডনি দান করেছিলেন স্ত্রী, তবুও স্বামীকে বাঁচানো সম্ভব হলো না। সফলভাবে প্রতিস্থাপনও করা হয়েছিল। কিন্তু স্বামী বাঁচলেন না। এত ত্যাগের পরও স্বামী দেলোয়ার হোসেনকে (৪২) বাঁচাতে না পেরে শোকে ভেঙে পড়ে পাগলপ্রায় দুই সন্তানের এই জননী।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জের দক্ষিণ রূপসা গ্রামের পাঠানবাড়িতে।
জানা যায়, প্রবাস ফেরত দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। তখন তার স্ত্রী আকলিমা বেগম নিজের কিডনি দানের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ১৪ আগস্ট ঢাকার শ্যামলী সিকেডি হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচারের পর দুদিনে স্বাস্থ্যের উন্নতি হলেও তৃতীয় দিন ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এই দম্পতির চার বছর বয়সি আশুরা জাহান ইভা ও ১১ বছরের আফরিন জান্নান ইরা নামের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘স্ত্রীর একমাত্র ইচ্ছা ছিল স্বামীকে সুস্থ জীবন দেওয়া; কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তা সম্ভব হলো না। এলাকাবাসী ও স্বজনরা এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং স্ত্রীর আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।
দেলোয়ারের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের স্ত্রী আকলিমা বেগম তার স্বামীকে কিডনি দিয়ে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর প্রথমে আমরা জানাইনি। পরবর্তীতে তিনি জানতে পেরে এখন পাগলপ্রায়। আমাদের অসুস্থ এ বোনটিকে বাঁচাতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
একই কথা জানিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে দেলোয়ারের বৃদ্ধা মা শামছুন্নাহার বলেন, ‘নিজের কিডনি দিয়েও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারেনি পুত্রবধূ আকলিমা। এখন সে নিজেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। তার চিকিৎসা ও অবুঝ দুই শিশুর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার সহযোগিতা চাই।’

