Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

শরীয়তপুর ডিসি অফিস চত্বর তিন সাংবাদিককে মারধর যুবদল নেতার

Advertisement

Icon

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:০১ পিএম

শরীয়তপুর ডিসি অফিস চত্বর তিন সাংবাদিককে মারধর যুবদল নেতার

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

শরীয়তপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে মঙ্গলবার দুপুরে তিন সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে তার সমর্থকরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা। হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেনÑডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাহিদ হাসান, নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশন ও জাগো নিউজ প্রতিনিধি বিধান মজুমদার ও মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লা। দুপুরে ওই তিন সাংবাদিক শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে গেলে তাদের মারধর করা হয়। শরীয়তপুরের বিএনপির নেতারা তখন সেখানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছিলেন।

আহত সাংবাদিক জাহিদ হাসান বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করার জন্য আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে যাই। সেখানে একটি বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছিল। ওই মিছিলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় যুবদল নেতা আরিফ মোল্লা (আরিফুজ্জামান) তার সহযোগীদের নিয়ে আমাকে মারধর করেছেন। তারা আমার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় কয়েকজন আইনজীবী আমাকে উদ্ধার করে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যান।

সাংবাদিক বিধান মজুমদার বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচতলা থেকে দোতলায় যাচ্ছিলাম। সেখানে যুবদল নেতা আরিফ মোল্লা ও তার সহযোগীরা আমাকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মেরে ভবন থেকে বের করে দেন। 

তিন সাংবাদিককে মারধরের বিষয়ে জানতে যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লাকে কয়েক দফা ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

কয়েকজন সাংবাদিক জানান, শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত শনিবার রাতে প্রেস ক্লাবের সীমানা প্রাচীরের তিনটি দেওয়াল ভেঙে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল ফেসবুকে প্রেস ক্লাব সভাপতি আবুল হোসেন ও জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের ছবি দিয়ে প্রতিবাদ করেন। ওই ঘটনার জেরে তার ওপর হামলা হয়েছে। এতে বিএম ইসরাফিলের ডান হাতের কবজি ভেঙে যায়।

সাংবাদিক ইসরাফিলের ওপর হামলা ও প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার প্রতিবাদে শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকরা গত রোববার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচি চলাকালে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম সেখান দিয়ে যেতে চাইলে সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে রাখেন এবং তার প্রত্যাহার দাবি করে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

ওই ঘটনায় শরীয়তপুরের বিএনপির একটি পক্ষ সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। বিএনপির কর্মীরা শরীয়তপুর প্রেস ক্লাব ও কয়েকজন সাংবাদিকের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করেন। তারা সভা করে সাংবাদিকদের বিপক্ষে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। 

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হচ্ছিলেন, তখন সেখানে যান সাংবাদিক জাহিদ হাসান, বিধান মজুমদার ও বরকত মোল্লা। জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে তার বেশ কয়েকজন সমর্থক ওই তিন সাংবাদিককে মারধর করেন।

বিএনপির পক্ষে করা ওই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আবদুস সালাম, শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল হক মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু প্রমুখ। বিএনপি নেতারা দাবি করেন, জেলা প্রশাসক সরকারের প্রতিনিধি। তার গাড়ি ঘিরে সাংবাদিকরা মব সৃষ্টি করেছেন। সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী আচরণ করে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার দাবি করেছেন। তারা প্রেস ক্লাবের নামে অবৈধভাবে সরকারি জমি দখলে রেখেছেন।

শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন। সাংবাদিকতার আড়ালে কিছু সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদের দোসর বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এমন কাজ করেছেন। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি। সেখানে কোনো সাংবাদিক নিগৃহীত বা মারধরের শিকার হয়েছেন কি না, তা আমার জানা নেই।

শরীয়তপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বলেন, জেলা প্রশাসক কোনো নোটিশ ছাড়া প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দিয়েছেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে সময় টিভির সাংবাদিক সন্ত্রাসী হামলার শিকারের পর আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকরা মানববন্ধন করেছেন এবং জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার দাবি করেছেন। এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যুবদলের এক নেতা তিন সাংবাদিককে মারধর করেছেন, যা অপ্রত্যাশিত ও অনাকাক্সিক্ষত। আমরা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেব। এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমকে কয়েক দফা ফোন করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম