Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

বাবার ওপর রাগ, হত্যার পর ছেলের লাশ বস্তায় ভরে ছাদে ফেলে রাখে প্রতিবেশী

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, ঢাকা উত্তর ও সাভার

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

বাবার ওপর রাগ, হত্যার পর ছেলের লাশ বস্তায় ভরে ছাদে ফেলে রাখে প্রতিবেশী

আব্দুর রহমান তাসিন

Advertisement

বিকালে খেলতে বের হয়েছিল ছোট্ট তাসিন। নিষ্পাপ সেই শিশুটি জানত না, প্রতিবেশীর মনের গোপন আক্রোশ তার ছোট্ট জীবনটাকেই কেড়ে নেবে। যে বয়সে মায়ের আঁচল ধরে খেলার মাঠে ছুটে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই নৃশংসতার শিকার হয়ে নিথর পড়ে থাকতে হলো পাঁচ বছরের আব্দুর রহমান তাসিনকে।

আব্দুর রহমান তাসিনের বাবার ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল প্রতিবেশী মো. সাইফুল ইসলামের (২৭)। প্রতিশোধ নিতে শিশুটিকে হত্যা করে সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ভবনের ছাদে ফেলে রাখে প্রতিবেশী মো. সাইফুল ইসলাম (২৭)।

বুধবার দুপুরে আশুলিয়া থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলা তদন্তের একপর্যায়ে সেই নির্মমতার ভার আর লুকিয়ে রাখতে পারেনি সাইফুল। দুই দফা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করে সে। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে সাইফুল ছাড়া অন্য কারও সম্পৃক্ততা এখনো পাওয়া যায়নি।

আশুলিয়া থানা পুলিশ জানায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে আশুলিয়ার ভাদাইল বাজার চৌরাস্তা এলাকার বাসা থেকে খেলতে বের হয় তাসিন। এরপর হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায় সে। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় স্বজনদের ছোটাছুটি, উৎকণ্ঠা আর অপেক্ষার অবসান হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে। তবে সেই অবসান ছিল হৃদয়বিদারক। একই ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ থেকে সাদা প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাসিনের নিথর দেহ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির মুখ ও গলায় লাল টেপ প্যাঁচানো ছিল। মুখের ভেতর চাল ও পলিথিনও পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় তাসিনের বাবা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্তে নেমে একই ভবনের বাসিন্দা সাইফুলকে আটক করে পুলিশ। পরে তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে লাল রঙের শপিং ব্যাগ, ইলাস্টিকের টুকরা, মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা চাল এবং বারান্দার নিচে পাওয়া ব্যবহৃত স্কচটেপের রোল।

এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে সাইফুলকে দুই দফায় এক দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। প্রথম দফায় সে অপরাধ অস্বীকার করলেও দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম