নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে দোকান ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ
Advertisement
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে দোকান ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁর মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া-মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে দখলকৃত স্থাপনায় নির্মাণকৃত দোকান ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
টিন দিয়ে নির্মিত একটি দোকান ঘর ভাঙচুরের এমনটি ভিডিও বুধবার বিকালে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে শিক্ষার্থীরা লাঠিসোটা নিয়ে ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যায়।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে চৌবাড়িয়া বাজারে চৌবাড়িয়া-মালশিরা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি রয়েছে পাশের রাজশাহী জেলার তানোর থানার মধ্যে। আর বিদ্যালয়ের পশ্চিমপাশে বিবাদমান একটি সীমানা প্রাচীর রয়েছে নওগাঁর মান্দা সীমানার মধ্যে। ১৯৬২ ও ১৯৭২ সালে বিদ্যালয়ের নামে ২০ শতাংশ রেকর্ড সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছে এবং ওই জায়গাটিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাচীর নির্মাণ করেছিল।
মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের আব্দুলের দুই ছেলে বেলাল উদ্দীন এবং হোসেন আলী পৈতৃক সূত্রে দীর্ঘদিন থেকে ওই জায়গাটি মালিক দাবি করে দখল করার চেষ্টা করছিল। পরবর্তীতে বেলাল উদ্দীন গং নওগাঁ আদালতে ২০১৫ সালে মামলা করেন। ওই মামলায় ২০২৩ সালে বিদ্যালয় ডিক্রি পাই। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে ২০২৬ সালের ২৪ মে বেলাল উদ্দীন গং ডিক্রি পায়।
গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতের অন্ধকারে বেলাল উদ্দীন গংরা বিদ্যালয়ের প্রাচীর ভেঙে টিন দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করে। রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে আসে এবং প্রাচীর দখল করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়। অভিযোগ রয়েছে- শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে দখলকৃত স্থাপনায় নির্মাণকৃত দোকান ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। টিন দিয়ে নির্মিত একটি দোকান ঘর ভাঙচুরের এমনটি ভিডিও বুধবার বিকালে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে শিক্ষার্থীরা লাঠিসোটা নিয়ে ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যায়।
এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন বলেন, একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে হোসেন আলী গংরা দখল করার চেষ্টা করছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে তারা বিদ্যালয়ের প্রাচীর ভেঙে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে এবং প্রাচীরের যে ইট ছিল সেগুলো তারা স্থাপনার মেঝেতে ব্যবহার করে। গত রোববার কয়েকটি গ্রামের অন্তত ২শ লোক ও অভিভাবক স্কুলে আসে। তারা সবাই তাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। আমাদের কাছে তারা অনুমতি চাইছিল ওই স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার জন্য। আমি অনুমতি না দেওয়ায় সবাই আমার ওপর মনঃক্ষুণ্ণ। পরে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই স্থাপনা ভেঙে দেয়। মামলা নিষ্পত্তির আগেই তারা বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা করেছে।
এ বিষয়ে আব্দুলের ছেলে বেলাল উদ্দীন বলেন, ওখানেই আমাদের একটি দোকানঘর ছিল। পাশেই আরও দুইটি ঘর নির্মাণ করা হয়। এ নিয়ে মোট তিনটি ঘর ছিল। যেখানে পশুখাদ্য, চাল, খুদ, ভুসিসহ বিভিন্ন উপকরণ ছিল। রোববার এক ট্রাক ফিড দোকানে নামানো হয়। পরিকল্পিত করে মালশিরা গ্রামের মিলন, সুলতানা, রুবেল, আকাশ, হিমেল ও মোজাম্মেল মিলে স্কুলের ছাত্রদের ব্যবহার করে দোকানে হামালা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে সবকিছু নিয়ে চলে যায়। এতে প্রায় ২৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি থানায় অবগত করা হয়েছে।
মান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলেপ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
