মাগুরায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনে ভ্যানচালকের মৃত্যু, দুই কর্মচারী বরখাস্ত
Advertisement
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামে পল্লীবিদ্যুৎ লাইনে রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিযুক্ত মাহফুজুর রহমান (৩৫) নামে একজন ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
মৃত মাহফুজুর রহমান শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রামের আমজাদ আলির ছেলে। পেশায় একজন ভ্যানচালক হলেও তিনি দৈনিক হাজিরাভিত্তিতে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
এদিকে মাহফুজুরের মৃত্যুর ঘটনার পর সঙ্গে থাকা লাইনম্যান সুমন গাজী এবং শ্রীপুর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের কন্ট্রোলরুমে দায়িত্বরত লাইনম্যান ইয়াসিন আলি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে লাইন টেকনিশিয়ান হাসান আলি নিরুদ্দেশ রয়েছেন।
শ্রীপুর উপজেলা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে লাইনম্যান সুমন গাজী এবং লাইন টেকনিশিয়ান হাসান আলি দিনমজুর মাহফুজুর রহমানকে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বৈদ্যুতিক সংযোগ রক্ষণাবেক্ষণ কাজে বের হন। দুপুর দেড়টার দিকে তারা কল্যাণপুর গ্রামে যায়। সেখানে ১১ কেভি বৈদ্যুতিক পিলারে উঠার পর বিদ্যুতস্পৃষ্ট হন মাহফুজ।
স্থানীয়রা জানান, লাইন টেকনিশিয়ান হাসান আলি দুপুর দেড়টার দিকে লাইনম্যান সুমন গাজী এবং ভ্যানচালক মাহফুজুরকে রেখে নামাজ পড়ার জন্য এলাকার মসজিদে যান। পৌনে ২টার দিকে লাইনম্যান সুমন গাজী নিচে দাঁড়িয়ে থেকে ভ্যানচালক মাহফুজকে বৈদ্যুতিক পিলারে তুলে দেন। কিন্তু পিলার বেয়ে উপরে উঠতেই তিনি বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। পরে শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শামীম উদ্দিন বলেন, মাহফুজ একজন দিনমজুর। গাছের ডালপালা ছাঁটাছাঁটির কাজ করতেন। তাকে সঙ্গে নিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দুইজন স্টাফ ট্রান্সমিটার মেরামতের কাজে গিয়েছিলেন। সেই সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকার কথা। তারপরও কিভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে মেরামত কাজে যাওয়া সুমন গাজী এবং বিদ্যুৎ স্টেশনে ঘটনার সময় দায়িত্বরত লাইনম্যান ইয়াসিন আলি ঘটনার আকস্মিকতায় অচেতন হয়ে পড়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সুস্থ হয়ে উঠলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়া মেরামত কাজে যাওয়া টেকনিশয়ান হাসান আলিকে পাওয়া যাচ্ছে না।
মাগুরা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, একজন দিনমজুরকে বৈদ্যুতিক পিলারে উঠানোর কোনো সুযোগ নেই। তারপরও বিষয়টি কেন ঘটেছে সেটির তদন্তে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ঝিনাইদহ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মনিরুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। চার কর্মদিবসের মধ্যে ওই কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এছাড়া প্রাথমিকভাবে লাইনম্যান সুমন কাজী এবং লাইন টেকনিশিয়ান হাসান আলিকে সাসপেন্ড (বরখাস্ত) করে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
