Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকি আরেক নেতার, থানা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:১১ পিএম

বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকি আরেক নেতার, থানা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত

রাজশাহীতে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে আরেক নেতাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরা দুজনের একজন রাজশাহী মহানগর বিএনপির রাজপাড়া এবং অন্যজন কাশিয়াডাঙ্গা থানার সভাপতি।

হত্যার হুমকির ঘটনায় রাজশাহী মহানগরীর বিএনপির সভায় উচ্চবাচ্য হলে রাজপাড়া থানা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

রাজপাড়া থানা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান তাকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার সভাপতি মাঈনুল ইসলাম হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযোগকারী মিজানের কমিটির কার্যক্রম শুক্রবার স্থগিত করেছে রাজশাহী মহানগর বিএনপি। এ ঘটনায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত ২২ আগস্ট কাশিয়াডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি মাঈনুলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মিজান। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) সৈয়দ শাহীন শওকতের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে এই অভিযোগ করা হয়।

এছাড়া ১৬ আগস্ট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন মিজান।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ আগস্ট দলের চেয়ারম্যান তার গুলশান কার্যালয়ে রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভা শুরু হওয়ার আগে সেখানে কাশিয়াডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি মাঈনুল রাজপাড়ার সভাপতি মিজানকে অযাচিত কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজপাড়া থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন মো. মামুন। পরে সভাপতি করা হয় মোনায়েমকে। কাশিয়াডাঙ্গা থানার সভাপতি মাঈনুলের বন্ধু আগের কমিটির সভাপতি মামুন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে ওই সভায় মামুন যেতে পারেননি। এ জন্য ক্ষুব্ধ হন মাঈনুল। মামুন আমন্ত্রণ না পাওয়ায় তিনি মিজানকে দোষারোপ করতে থাকেন। তবে মিজান দাবি করেন, কে যাবেন বা না যাবেন, সে তালিকা তিনি করেননি।

লিখিত অভিযোগে মিজান জানিয়েছেন, ঢাকায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পর ১৫ আগস্ট রাতে মাঈনুল তার লোকজন নিয়ে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের দোতলায় তাকে খুঁজতে থাকেন এবং গালমন্দ করেন। তখন তাদের কাছে অস্ত্র ছিল বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। দলীয় কার্যালয়ে না পেয়ে মাঈনুল তার লোকজন নিয়ে মিজানের বাসায় যান। সেখানেও তাকে না পেয়ে গালমন্দ করেন এবং ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবেও মহানগরের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে জানান। তবে অভিযোগের পরেও  মাঈনুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মহানগরীর ভুবন মোহন পার্কে রাজশাহী মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একটি সভা ছিল। সভামঞ্চে বসে ছিলেন মাঈনুল। সেখানে রাজপাড়া থানা বিএনপির নেতারা মাঈনুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় মাঈনুল থাকলে তারা ওই সভা বয়কট করার ঘোষণা দেন।

তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। তার বক্তব্য চলাকালে রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মিজান বিচার চান।

এ সময় রিটন বলেন, সভা শেষে তাদের সঙ্গে বসবেন। তখন রাজপাড়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম উচ্চবাচ্য করেন। একপর্যায়ে তারা সভা থেকে বের হয়ে চলে যান। তাদের এ আচরণ দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে রাজপাড়া থানা বিএনপির কার্যক্রম স্থগিতের প্রস্তাব করেন মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রিটন। তখন সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন রাজপাড়া থানা বিএনপির কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেন।

মিজানুর রহমান মিজান বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদের কমিটি হয়েছে। মহানগর বিএনপি আমাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে পারে না। এটা শুধু কেন্দ্রীয় কমিটি পারে। আমরা শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনো কিছু করলে মহানগর শোকজ করতে পারে। সেটি না করে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বিচার চাওয়ায় এটা করা আসলেই দুঃখজনক।

তিনি দাবি করেন, দলের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন। কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে তারা অগঠনতান্ত্রিক বলেছেন। প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় তিনি কাশিয়াডাঙ্গা থানার সভাপতি মাঈনুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাঈনুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমি বিএনপি করি, পার্টি অফিসে তো যাবই। সেখানে গেলেই যে মিজানকে খুঁজতে গেছি, তা নয়। তার বাড়িতেও যাইনি। আমাদের কাছে অস্ত্রশস্ত্র থাকলে মিজান প্রমাণ করুক।

তবে মাঈনুল স্বীকার করেন, আমন্ত্রণ না পাওয়া মামুন তার বন্ধু বলে ঢাকায় মিজানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, চাইলেই মহানগর বিএনপি কমিটি স্থগিত করতে পারে না। মহানগর কমিটি এ ব্যাপারে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের ঐক্য ও সংহতির পরিপন্থি।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ধরেননি।

সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি একটি মিটিংয়ে আছি। কোনো কিছু শুনতে পাচ্ছি না। কোনো বিষয়ে কথা থাকলে আমি পরে ফোন দেব।

এ কারণে মহানগর বিএনপির এ দুই শীর্ষ নেতার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম