যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর হাওড়ে ফিরছে চুরি হওয়া বাঁধের ব্লক
Advertisement
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
নেত্রকোনার হাওড়ে ফিরছে চুরি হওয়া বাঁধের ব্লক। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার চরহাইজদা উপপ্রকল্পের ফসলরক্ষা বাঁধ থেকে লুট হওয়া কংক্রিটের ব্লক ফেরত দিতে শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। যুগান্তরে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ৩০ আগস্ট বিকাল থেকে বাঁধের নির্ধারিত স্থানে ব্লক ফেরত আসতে শুরু করে।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ব্লক ফেরত আনা হয়েছে। ব্লক নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরাই সেগুলো বাঁধের নির্ধারিত স্থানে এনে বসিয়ে দিচ্ছেন। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে বাকি ব্লকগুলোও ফেরত আনার আশা করছে পুলিশ।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার উত্তর বরান্তর বাজারসংলগ্ন চিকাডুবি হাওড় এলাকায় ফসলরক্ষা বাঁধের ওপরের কংক্রিটের ব্লক খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টানা ১২ দিনে বাঁধের প্রায় ২৫০ মিটার অংশ থেকে অন্তত ২ হাজার ৫০টি ব্লক লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। যার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। বাঁধের ব্লকগুলো খুলে নেওয়ায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। আসন্ন বোরো মৌসুমে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশঙ্কাও করেন তারা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বাঁধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে ব্লক সরিয়ে নেওয়ার কারণে ভাঙন দেখা দিলে হাওড়ে পানি ঢুকে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত সব ব্লক নির্ধারিত স্থানে ফিরিয়ে এনে বাঁধটি সুরক্ষিত করার দাবি জানান তারা।
জানা গেছে, চরহাইজদা উপপ্রকল্পের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধটির দৈর্ঘ্য ৬১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ডিঙ্গাপোতা হাওড়ের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধের অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৭০০ কিলোমিটার অংশ ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়। এ কাজে ব্যয় হয় ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বাঁধটি ডিঙ্গাপোতা হাওড়ের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিসহ বোরো ধানসহ পাশের খালিয়াজুরী উপজেলার কয়েকটি হাওরের ফসল বন্যার হাত থেকে রক্ষা করে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম জানান, ব্লক ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ব্লক ফেরত এসেছে। বাকি ব্লকগুলোও দ্রুত ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় যুগান্তরের সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বাঁধের ব্লকগুলো ফেরত দিতে বলা হয়েছে। ফসল রক্ষার স্থায়ী বাঁধ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে তৎপর থাকতে বলা হয়েছে।

