সখীপুর সড়কে পড়ে ছিল মন্ত্রীর স্বজনের রক্তাক্ত লাশ, পরিবারের দাবি হত্যা
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলের সখীপুরে একটি সড়ক থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের স্বজন আওয়াল শফিক (৪০) নামের এক স্বাস্থ্য সহকারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনায় নিহত আওয়ালের স্ত্রী তানিয়া আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞানামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সখীপুর–বাসাইল সড়কের নলুয়া বাজারের অদূরে সড়কের ওপর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
আওয়াল শফিক উপজেলার বোয়ালী গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেনের ছেলে ও যাদবপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইল–৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের ফুফাতো বোনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, সড়কে আওয়ালের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকলেও পাশে তার মোটরসাইকেলটি অক্ষত অবস্থায় ছিল।
পুলিশ বলছে, এটি সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি হত্যাকাণ্ড—এ ব্যাপারে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টার দিকে যাদবপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়ী সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কেন্দ্রে যান আওয়াল শফিক। সেখানে দায়িত্ব পালনের পর দুপুর ১২টার দিকে নিজ মোটরসাইকেলে নলুয়া বাজারে ফিরছিলেন। দুপুর পৌনে ১টার দিকে স্থানীয় লোকজন নলুয়া বাজারের অদূরে সড়কের ওপর তার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে শনাক্ত করেন এবং পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।
যাদবপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আওয়াল শফিকের লাশ দেখতে পান। তার মাথার এক পাশ থেঁতলে যায় এবং গলায় কাটা দাগ ছিল। মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে পড়ে থাকলেও সেটি অক্ষত ছিল। আশপাশে কোনো ভারি যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের আলামত দেখা যায়নি।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। পাশাপাশি তিনি আওয়ালের বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। এ সময় আওয়ালের স্বজনরা মন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
এ সময় স্বজনরা দাবি করেন, দুর্ঘটনায় মারা গেলে গলায় কাটা দাগ কোথা থেকে এলো। তা ছাড়া আওয়ালের সঙ্গে অনেকের বিরোধ ছিল। পরে সখীপুর থানার ওসিকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্তের পর এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
