Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

যুবলীগ নেতার পক্ষ নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বিএনপি নেতা, (ভিডিও ভাইরাল)

Icon

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

যুবলীগ নেতার পক্ষ নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বিএনপি নেতা, (ভিডিও ভাইরাল)

ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের বকশীগঞ্জে হত্যা মামলার আসামি ও পৌর কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম সওদাগরকে বাঁচাতে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর। তারা সম্পর্কে সহোদর ভাই।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর।

মানিক সওদাগর যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম সওদাগরের বড় ভাই। বক্তব্যে তিনি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে দলের ভেতরে যারা এখনো ভালো হননি, তাদের দ্রুত ভালো হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম ভূমিকা রেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তার এ বক্তব্যের একটি ভিডিও বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

নজরুল ইসলাম সওদাগর কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের বকশীগঞ্জ পৌর কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগরের দাবি, বর্তমানে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং তাকে তিনটি হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। 

ভিডিওতে মানিক সওদাগরকে বলতে শোনা যায়, বকশীগঞ্জের এই বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছে কে? এই ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে এই সাতটি ইউনিয়নের বিএনপিকে বুকে নিয়ে কে ধারণ করেছে, আপনারা জানেন? সেই বকশীগঞ্জের মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর। এই মিল্লাত ভাইয়ের (বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত) পরামর্শে সে আওয়ামী লীগে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আজকে কার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে? যারা ষড়যন্ত্র করছে তারা কে, আপনারা জানেন? তারা কে? কোত্থেকে এসেছে? কার দল? কে তৈরি করেছে? আপনারা জেনে যান। আমরা যারা বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং প্রত্যেকটা ইউনিয়নে বিএনপি আছি, একটা লোক যদি বলতে পারে যে এই নজরুল ইসলাম সওদাগরকে দিয়ে আমার একটা ক্ষতি হয়েছে, চ্যালেঞ্জ! আর তাকে ষড়যন্ত্র করে তিনটে মার্ডার মামলায় ফেলানো হয়েছে। কে করেছে, সেটাও আমরা জানি। সেটাও ভিডিও ফুটেজ আছে।

বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় নজরুল ইসলাম উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৫ সালে জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের মাধ্যমে তিনি যুবলীগে যোগ দেন। ২০১৬ সালে তিনি পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হন। পরে ২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গণঅভ্যুত্থানের সময়কার ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানায় পুলিশ একটি এবং বিএনপির নেতা-কর্মীরা তিনটি মামলা করেন। এসব মামলার বেশির ভাগেই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আসামি করা হলেও নজরুল ইসলামকে আসামি করা হয়নি। বেশির ভাগ নেতা-কর্মী পলাতক থাকলেও নজরুল ইসলাম এলাকায় অবস্থান করতেন।

২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার খয়ের উদ্দিন মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে কয়েকজন সহযোগীসহ নজরুল ইসলাম উপস্থিত হন। বিষয়টি নজরে এলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন তাকে গ্রেফতারের দাবি জানান।

এরপর ১২ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একাধিক মামলায় সাত মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে তিনি এলাকাতেই অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর যুগান্তরকে বলেন, কি বক্তব্য দিয়েছি? যা সত্য, তাই বলেছি। এটুকুই আমার বক্তব্য।

জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন যুগান্তরকে বলেন, দলীয় দায়িত্বশীল পদে থেকে এরকম বক্তব্য তিনি দিতে পারেন না। এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় ও ঘৃণ্যতম। আমি তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

জামালপুর-১ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম