ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেট নগরীর জল্লারপার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র পানির সংকট নিরসনের আকুল দাবি নিয়ে সিটি করপোরেশনে (সিসিকে) গিয়ে উল্টো পুলিশ হাজতে ঠাঁই হয়েছে ছয় যুবকের। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সিসিক ভবনের ষষ্ঠ তলার পানি শাখায় জানালার কাচ ভাঙচুরের অভিযোগ এনে কর্মচারীরা তাদের আটক করেন। পরে কোতোয়ালি থানা-পুলিশকে ডেকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার ব্যাপারে সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, কারা গিয়ে অফিসে ভাংচুর করেছে বলে শুনেছি। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা বিষয়টি দেখছেন।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মঈনুুল জাকির যুগান্তরকে বলেন, সিসিকে ভাংচুরের অভিযোগে ৬ যুবককে থানায় দেওয়া হয়েছে। আইন অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জল্লারপার এলাকায় কয়েকদিন ধরে দেখা দেওয়া চরম পানি সংকট সমাধানের দাবিতে এর আগে গত সোমবার স্থানীয় বাসিন্দারা সিসিকে কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। তখন তিন দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকার প্রায় ২৫ জন বাসিন্দা খালি কলস ও বালতি নিয়ে সিসিক ভবনের ষষ্ঠ তলায় যান। সেখানে পানি শাখার কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরবর্তীতে কর্মচারীরা সংগঠিত হয়ে ছয় যুবককে ধরে নিচতলায় নিয়ে যান এবং ভবনের জানালা ভাঙচুরের অভিযোগ এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
এ বিষয়ে জল্লারপার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পানির দাবিতে আমরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সিসিকে গিয়েছিলাম। কোনো ধরনের ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। ন্যায়সংগত দাবি জানাতে গিয়ে অন্যায়ভাবে আমাদের ছয় যুবককে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আমরা তাদের অনতিবিলম্বে নিঃ শর্ত মুক্তি চাই।
এদিকে সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী (পানি) এনামুল হক তাপাদার বিদ্যুতের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার কথা স্বীকার করলেও লোক আটকের বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান।
তবে সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ দাবি করেন, সরকারি সম্পত্তি ও জানালার কাচ ভাঙচুর করার কারণেই ছয়জনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
