Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

খুলনায় বাড়ি থেকে অপহরণ

২৬ লাখ টাকা দিয়েও মুক্তি মেলেনি প্রীতমের

Icon

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭ এএম

২৬ লাখ টাকা দিয়েও মুক্তি মেলেনি প্রীতমের

বাড়ি থেকে অপহরণের চার দিন পরও সন্ধান মেলেনি খুলনার প্রীতম মণ্ডলের (২৭)। মুক্তিপণ হিসাবে দাবিকৃত ১ কোটি ৯০ লাখ টাকার মধ্যে ২৬ লাখ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। তবে এরপরও তাকে ছাড়া হয়নি। বরং তাকে নিয়ে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছে অপহরণকারীরা। পুলিশের দাবি, এতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। 

এদিকে একই সঙ্গে অপহৃত প্রীতমের বাবা শিমুল মণ্ডল মঙ্গলবার গভীর রাতে বাড়ি ফিরেছেন। এর আগে সোমবার দুপুরে হরিণটানা থানার ঘোলা গ্রামের বাড়ি থেকে তাদের তুলে নিয়ে যায় একদল যুবক। 

প্রীতমের স্ত্রী স্বর্ণা মণ্ডল বলেন, অপহরণকারীরা তাদের জানিয়েছে যে প্রতিবেশী রামপ্রসাদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে প্রীতমকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে সন্ত্রাসী বাহিনী বি কোম্পানির মূলহোতা রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবু ওরফে নবাবের নির্দেশ রয়েছে। 

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ওইদিন দুটি মোটরসাইকেলে করে চার যুবক বাড়িতে ঢুকে প্রীতমকে তুলে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করে। এ সময় তার বাবা শিমুল বাধা দেওয়ায় দুজনকেই তুলে নিয়ে যায় তারা। এরপর মুক্তিপণ হিসাবে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রীতমের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের ঘর তালাবদ্ধ ছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেশীরাও মুখ খুলতে রাজি হননি। পরে মোবাইল ফোনে প্রীতমের স্ত্রী জানান, অপহরণকারীদের কয়েক দফায় ২৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। দাবিকৃত বাকি টাকা আদায়ের জন্য প্রীতমকে নির্যাতন করা হচ্ছে। মোবাইল ফোনে তার কান্নার শব্দও পরিবারের সদস্যদের শোনানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানালে স্বর্ণা, প্রীতম ও তাদের দুবছরের সন্তানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। 

হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন জানান, প্রীতমের সঙ্গে প্রতিবেশী রামপ্রসাদের ৩৬ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। এ বিরোধ কেন্দ্র করেই ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রীতমকে উদ্ধারে একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। 

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. রেজাউর রহমান বলেন, প্রীতমকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। অপহরণকারীরা বারবার স্থান পরিবর্তন করায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম