গরমের সঙ্গে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ‘আতঙ্কে’ বিদ্যুৎকর্মীরা
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ বরিশাল নগরবাসীর ক্ষোভের মুখে পড়ছেন বিদ্যুৎ বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। বাড়ি বাড়ি মিটার রিডিং নিতে কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতে গেলেই গ্রাহকদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করেও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্ক নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের কর্মীরা।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে নগরীর হাসপাতালসহ জনজীবনে। বিদ্যুৎ চলে গেলেই ব্যাহত হচ্ছে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নগরীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
নথুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা যায় না। বিদ্যুৎকর্মীরা এলাকায় এলে মানুষ তাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান দরকার।
সদর রোডের ব্যবসায়ী মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সময়েও লোডশেডিং হচ্ছে। এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। বারবার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ঝুঁকিতে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিদ্যুৎকর্মী বলেন, লোডশেডিং হলে গ্রাহকদের ক্ষোভ তাদের ওপর এসে পড়ে। মিটার রিডিং নিতে বা সংযোগের কাজ করতে গেলে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। কেউ কেউ উত্তেজিত আচরণও করেন। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদন বা লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হাতে নেই। লোডশেডিংয়ের কারণে নগরীর দুই সরকারি হাসপাতালেও দুর্ভোগ বেড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র এক হাজার শয্যার শেবাচিম হাসপাতালে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। নতুন ভবনে বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফট, ফ্যান ও বাতি বন্ধ হয়ে যায়। জেনারেটর থাকলেও পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে তা সার্বক্ষণিক চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অপারেশনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় একই অবস্থা ১০০ শয্যার বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে। হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের ভরসা হাতপাখা। রাতে অন্ধকার দূর করতে মোমবাতিও ব্যবহার করতে হয়।
হাসপাতালের রোগী মো. আলামিন বলেন, ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে এসেও গরমে কষ্ট পাচ্ছেন। টিনশেড ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ না থাকলে থাকা কঠিন হয়ে যায়।
জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, বিকল জেনারেটরটি সচলের চেষ্টা করেও চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে লোডশেডিংয়ের সময় আইপিএসের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার কক্ষ সচল রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। শেবাচিম হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, নতুন ভবনের জন্য আরও একটি বিদ্যুৎ সংযোগ এবং জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওজোপাডিকোর পলাশপুর গ্রিড সাবস্টেশনের বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় জেনারেল হাসপাতালে তুলনামূলক কম লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১, ওজোপাডিকো বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, অভিযোগ এলে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে কাজ করা হচ্ছে।
