Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

মেয়েকে ৬ মাস ধরে ধর্ষণ, বাবার মোবাইলে ভিডিও, ফাঁস হতেই পলাতক

Icon

নরসিংদী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫০ এএম

মেয়েকে ৬ মাস ধরে ধর্ষণ, বাবার মোবাইলে ভিডিও, ফাঁস হতেই পলাতক

ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীতে ১৪ বছর বয়সি এক মাদ্রাসাপড়ুয়া মেয়েকে প্রায় ছয় মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই বাবা হালিম মিয়ার (৪০) বিরুদ্ধে। 

ধর্ষণের সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণও করতেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নরসিংদী সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত হালিম মিয়াকে আটক করার জন্য তার বাড়িতে গেলে বিষয়টি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।

অভিযুক্ত হালিম মিয়া পেশায় মিশুকচালক। তিনি দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর এক ছেলে ও এক মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীরও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ১৪ বছর বয়সি বড় মেয়েটিই দীর্ঘদিন ধরে তার নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল।

শিলমান্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুদ ভূইয়া বলেন, জীবিকার তাগিদে ভুক্তভোগীর মা প্রবাসে যান। সৎ মা বাসা থেকে বের হলে খালি বাসায় সুযোগ পেয়ে হালিম প্রায় সময়ই ১৪ বছরের শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছে। প্রায় ৬ থেকে ৭ মাস ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের পর সে নিজেই ছোট ছোট ভিডিও করে রাখত। ভুক্তভোগীর সৎ বোন গর্ভবতী হওয়ায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে হালিমের ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে এসব ভিডিও দেখতে পান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত হালিম মিয়াকে আটক করার জন্য তার বাড়িতে গেলে বিষয়টি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ভুক্তভোগী মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, মেয়েটি প্রায় ছয় মাস ধরে বাবার কাছে ধর্ষণের শিকার হয়ে আসছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আবার ধর্ষণের ভিডিও করেও রাখত। হালিম যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তা ১০০টি হত্যার চেয়েও ভয়ংকর। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মুসা বলেন, এই গ্রামে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা এ ঘটনার কঠিন বিচার চাই। এমন বাবা যেন কারও না হয়।

নরসিংদী মডেল থানার ওসি এম আর আল মামুন বলেন, ভুক্তভোগী মেয়েকে আমরা উদ্ধার করেছি। শুক্রবার তার মেডিকেল পরীক্ষা করানো হবে। তার বাবা পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম