ধর্মবিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কোনো মানুষ যেন পেছনে না পড়ে: প্রতিমন্ত্রী অমিত
যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব উপলক্ষে যশোর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত শোভাযাত্রা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ধর্মবিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কোনো মানুষ যেন পেছনে না পড়ে কিংবা অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ অথবা সুবিধাবঞ্চিত না হয়—বর্তমান সরকার সেটি নিশ্চিত করতে চায়। আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে চিনতে শিখেছি। এই শিক্ষা আমার রাজনৈতিক দল বিএনপি দিয়েছে। যে কারণে ক্ষমতায় থাকলেও আমরা মানুষের পাশে থাকি, ক্ষমতায় না থাকলেও মানুষের পাশে থাকি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব উপলক্ষে যশোর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত শোভাযাত্রাপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা ধর্মকে পুঁজি করে সস্তা রাজনীতি করে দেশে বিভক্তি বা সমাজে অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করবে, সরকারের পাশাপাশি আমরা সকলে মিলে তাদের প্রতিরোধ করব।
সবাইকে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ম মানুষের বিশ্বাস এবং চেতনার বিষয়, রাজনীতির মাঠে অনৈতিক সুবিধালাভের মাধ্যম হতে পারে না। আজকের এই দিনটি কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং আধ্যাত্মিক চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার দিন। দ্বাপর যুগে অন্ধকারাচ্ছন্ন পাপাচারময় সময়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল। মথুরার কংসের কারাগারে বন্দিদশার সেই কঠিন সময়ে তার জন্ম আমাদের এই বার্তা দেয়, রাতের অন্ধকার যত গভীর হোক না কেন, ন্যায়ের পথ ধরে আসে মুক্তির আলো—এটাই পরম সত্য। তাই সমাজ থেকে সত্য ও বিশ্বাস হারিয়ে গেলেও সমাজ টিকে থাকবে আশার আলো নিয়ে। সেই আশার আলো হচ্ছে, আবারও সমাজে সত্য উন্মোচিত হবে এবং পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন ও ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারব। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের সেই শিক্ষা দিয়েছে।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদে বলেছিলেন, কারও ধর্মবিশ্বাস কিংবা রাজনৈতিক দর্শন বিবেচ্য নয়, বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে বসবাসকারী সকলের একটি পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি। তাই আপনাদের (সনাতন ধর্মাবলম্বী) দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এই যশোরের মাটিতে আমার যতখানি অধিকার রয়েছে, আপনাদেরও সনাতন ধর্মাবলম্বী হিসেবে ঠিক ততখানি অধিকার রয়েছে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও যশোর পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাড. দেবাশীষ দাস, রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন যশোরের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দজী মহারাজ, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রবিন পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার সরকার, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উৎপল ঘোষ প্রমুখ।

-6a9aad4dd2f45.jpg)