Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

চুরি ঢাকতে গোপনে ওষুধ পুড়িয়ে দেন স্টোর কিপার, তদন্তে দোষ স্বীকার

Icon

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম

চুরি ঢাকতে গোপনে ওষুধ পুড়িয়ে দেন স্টোর কিপার, তদন্তে দোষ স্বীকার

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ওষুধ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটির কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত স্টোর কিপার তৌকিক চৌধুরী। 

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান।

জানা যায়, গত ১২ আগস্ট গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত স্টোর কিপার তৌকিক চৌধুরী চুরি ঢাকতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধ বিনষ্ট করেছেন। বিষয়টি পরিচালক (ময়মনসিংহ) ও সিভিল সার্জনকে (নেত্রকোনা) অবগত করা হয়। এরপরই আরএমও ও ভারপ্রাপ্ত ডা. মো. তায়েব হোসেনকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান।

তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত স্টোর কিপার তৌকিক চৌধুরী নিজের দোষ স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান বলেন, হাসপাতালের ওষুধ কর্তৃপক্ষকে অবগত না করে স্টোর কিপার নিজের মনগড়াভাবে আগুনে বিনষ্ট করেন। এ নিয়ে ১২ আগস্ট চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করি। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে স্টোর কিপার নিজেই তার দোষ স্বীকার করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা বলেন, মদন স্বাস্থ্য প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়েছি। সোম বা মঙ্গলবার আমাদের পাঁচ সদস্যের কমিটি ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে। প্রতিবেদন সঠিক মনে হলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। আর সঠিক বলে মনে না হলে আমাদের কমিটি আবারও তদন্ত করবে।

উল্লেখ্য, তৌকিক চৌধুরী ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে টিএলসিএ (টিবি অ্যান্ড লেপ্রসি কন্ট্রোল অ্যাসিস্ট্যান্ট) পদে মদন উপজেলা যক্ষা ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের অধীনে কর্মরত আছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিনষ্ট করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে তালিকা প্রস্তুতের পর তা আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, তৌকিক চৌধুরী এসব নিয়ম অনুসরণ না করে হাসপাতালের একটি গোপন কক্ষে নিজের উদ্যোগে ওষুধ পুড়িয়ে দেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম