Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

বগা ও পিচ্চিসহ ২৭১ জনের নামে মামলা

ওসিকে পেটানোর হুমকির পর এবার ৭ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ

Icon

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

ওসিকে পেটানোর হুমকির পর এবার ৭ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ

চট্টগ্রামে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন বগা এবং তার ভাই রকি হোসেন পিচ্চিসহ ২৭১ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে নগরীর খুলশী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। এতে ২১ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে। তবে শনিবার বিকাল পর্যন্ত ওই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে খুলশী থানার ওসিকে সাত লাখ টাকা না দেওয়ায় পাহাড়তলী কলেজের শিক্ষককে মারধর ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন বগা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বগা নিজেই ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন। এর আগে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ওসিকে ল্যাংটা করে পেটানোর হুমকি দিয়েছিলেন বগা। সেই হুমকির ভিডিওটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র জানায়, গত ২৯ আগস্ট যুগান্তরে ‘অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা: পাহাড়তলী কলেজ গিলে খাচ্ছেন অধ্যক্ষ!’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই দিনই কলেজের আবাসিক রুম থেকে বাংলা বিভাগের প্রভাষক মিজানুর রহমান চৌধুরীকে তুলে নিয়ে যায় বগার অনুসারী হিসেবে পরিচিত ইমন, ফয়সাল ও সাজিদ।

কলেজের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৯ আগস্ট বিকাল ৪টা ১১ মিনিটে নির্যাতনের শিকার শিক্ষক মিজানুর রহমানের কক্ষের সামনে দিয়ে কলেজের মূল ফটকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদার। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন ইমন, ফয়সাল ও সাজিদ। ৪টা ১২ মিনিটে কলেজ গেটের সামনে তাদের সঙ্গে কথা বলেন অধ্যক্ষ। এরপর ৪টা ১৫ মিনিটে ভুক্তভোগী শিক্ষকের আবাসিক কক্ষের সামনে ওই তিন যুবক হাজির হন।

এ সময় ফয়সালের হাতে একটি হেলমেট ছিল। তারা তিনজন ওই শিক্ষকের কক্ষের সামনে অবস্থান করেন। এ সময় ফয়সাল ও ইমনকে কিছুক্ষণ পরপর মুঠোফোনে কথা বলতে দেখা যায়। ৪টা ২৯ মিনিটে ওই শিক্ষককে বের করে নিয়ে যায় তিন যুবক।

এরপর কলেজসংলগ্ন ওয়্যারলেস ২ নম্বর লেনে অবস্থিত বগার টর্চার সেলে নিয়ে ওই শিক্ষককে মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেন। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে কলেজের অধ্যক্ষকে প্রধান করে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান চৌধুরী। মামলায় বগাকে দুই নম্বর আসামি করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, মামলা দায়েরের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় শতাধিক অনুসারী নিয়ে থানায় চড়াও হয় বগার ছোট ভাই ও নগর ছাত্রদলের সদস্য রকি হোসেন পিচ্চি। ওই সময় ভুক্তভোগী শিক্ষক মিজানুর রহমান মামলার কপি সংগ্রহ করার জন্য থানায় অপেক্ষায় ছিলেন। তারা ওসির রুমে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যাওয়ার পর রাত ৯টা ১৬ মিনিটে ওসির মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেন বগা।

১ মিনিট ৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে বগাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই আমাকে খুঁজতে আসবি না, আয় (প্রকাশ অযোগ্য গালি), তোর আওয়ামী লীগের মারে (প্রকাশ অযোগ্য গালি) একশ’ বার, (প্রকাশ অযোগ্য গালি) তোরে ধরলে ল্যাংটা করে ফেলাবো (প্রকাশ অযোগ্য গালি), ল্যাংটা। তুই আওয়ামী লীগ করতি, তুই কত টাকা খাইছোছ ক? (প্রকাশ অযোগ্য গালি) এই ওসি (প্রকাশ অযোগ্য গালি), তুই আমাকে ছিনস? (প্রকাশ অযোগ্য গালি), এক পর্যায়ে ওসিকে ‘কোন জায়গায় আসবো ভাইয়া’ বলতে শোনা যায়। তখন বগা বলে, ‘মামলা কেন করছস, মিথ্যা মামলা আমার নামে, তোরে ধরলে বুঝবি (প্রকাশ অযোগ্য গালি), তোর মা দুধ খাইয়াই থাকলে আয় (প্রকাশ অযোগ্য গালি)।’

বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর পর বগাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। ওই নির্দেশ পাওয়ার পর শুক্রবার ভোররাতে নগরীর ওয়্যারলেস এলাকায় বগাকে গ্রেফতারে অভিযান চালায় খুলশী থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা করে বগার লোকজন।

ভাঙচুর করে পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি। হামলায় ওসিসহ ২২ জন পুলিশ আহত হন। তবে একপর্যায়ে বগা তার বাসা থেকে বের হওয়ার গোপন পথ দিয়ে পালিয়ে যায়।

জানতে চাইলে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম যুগান্তরকে বলেন, ‘বেআইনি সমাবেশ ও দাঙ্গা করার অভিযোগে বগা ও তার ভাই পিচ্চিসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শিক্ষককে মারধর ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সেই মামলা দায়ের হওয়ায় আমাকে কল করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দিয়েছে। সে ব্যাপারেও থানায় জিডি করা হয়েছে। মূলত, পুলিশের মনোবল ভাঙতেই আমার বিরুদ্ধে ৭ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার কাল্পনিক অভিযোগ করেছে বগা।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম