ছেলে হত্যাকারীদের বিচার চাইলেন মা, মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি!
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনা জেলা শহরের মুক্তারপাড়া প্রেসক্লাবে সোমবার সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে ছেলে হত্যার বিচার চাইলেন মা লিজা আক্তার। তিনি বলেন, ছেলেকে গ্রামের মানুষের সামনে সাউন্ডবক্সে গান বাজানোর অপরাধে পিটিয়ে হত্যা করে। তারা আমার সন্তানকে হত্যা করেই থামেনি। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমার পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ আসামি ধরেনা। আমরা জীবন নিয়ে খুব শঙ্কায় আছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সোহাগ, মো. মাসুদ মিয়া, রবিন মিয়া, নজরুল ইসলাম, লিপি আক্তার, উজ্জ্বল মিয়া, ইমন মিয়া প্রমুখ।
লিজা আক্তারের বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বাবনিকোনা গ্রামে। ওই গ্রামের সংসদ বাজার মসজিদের সামনের সড়কে গত ১ জুলাই রাতে লিজা আক্তারের ছেলে ফয়সাল আহমেদকে (১৯) পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে দুর্বৃত্তরা। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্সে গান বাজানো ও ছবি তোলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।পরদিন ফয়সাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ সময় আরও অন্তত তিনজন আহত হন।
নিহত ফয়সাল আহমেদ ওই এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি নেত্রকোনার আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
ফয়সালের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের ১ জুলাই বাবনিকোনা সংসদ বাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস মিয়ার মেয়ের বিয়ে ছিল। এ উপলক্ষে দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে সাউন্ড বক্স বাজানো ও ছবি তোলা নিয়ে ফয়সাল আহমেদ ও তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে একই গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে মাসুম মিয়ার কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাসুম মিয়া তার পরিবারের লোকজন নিয়ে ফয়সাল আহমেদসহ অন্যদের ওপর হামলা চালায়।
এতে ফয়সাল, তার চাচাতো ভাই রবিন মিয়া, চাচা সাদেকুল ইসলাম ও চাচাতো ভাই উজ্জ্বল মিয়ার ছেলে সৌরভ মিয়া আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফয়সাল ও সাদেকুলকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে ফয়সাল মারা যান।
এ ঘটনায় পরদিন ফয়সলের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মো. মিলন মিয়া, মো. কামরুল ইসলাম, জুয়েল মিয়াসহ উনিশ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর মিলন মিয়া ও মো. শাজাহান মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাকি আসামিরা মামলা তুলে নিতে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও জানান মামলার বাদী নজরুল ইসলাম।
নিহত ফয়সালের চাচা সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘মাসুম মিয়া, তার বাবা কামরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই রাজন মিয়া, রিয়াজ মিয়া, মিলন মিয়াসহ কয়েকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ফয়সাল নিহত হয়েছে, আমরা হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছি। এখন আসামিরা আবার মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত মাসুম মিয়া ও অন্যদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফয়সালের মৃত্যুর পর থেকে তারা বাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স বাজানো ও ছবি তোলা নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় ফয়সাল আহমেদ নামের এক কলেজশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এঘটনায় মামলার পর দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
