Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

বিটিআই প্রয়োগে গাজীপুরে মশার লার্ভা ধ্বংসের যুগান্তকারী উদ্যোগ

Icon

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

বিটিআই প্রয়োগে গাজীপুরে মশার লার্ভা ধ্বংসের যুগান্তকারী উদ্যোগ

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মশার লার্ভা ধ্বংস অভিযান

বিটিআইয়ের (ব্যাসিলাস খুরিনজিয়েনসিস ইসরায়েলেনসিস) মাধ্যমে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মশার লার্ভা ধ্বংস অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার।

এ সময় তিনি বলেন, বিটিআই মশার লার্ভা নিধনের একটি কার্যকরী ওষুধ। আজকে থেকে এটির কার্যক্রম শুরু হলো। মশার প্রাদুর্ভাব বেশি এমন ৯টি ওয়ার্ডে প্রথমে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে ৫৭টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের বিস্তার রোধে মশার লার্ভা ধ্বংসে নতুন কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রশাসক বলেন, মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে শুধু উড়ন্ত মশা নিধন নয়, বরং মশার লার্ভা ধ্বংসের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেখানে বিটিআই প্রয়োগ করা হবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস অভিযান এবং পরিবেশবান্ধব বিটিআই বায়োপেস্টিসাইডের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটে। ফলে মশার লার্ভা অবস্থাতেই ধ্বংস করতে পারলে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ মশার সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বিটিআই ব্যবহারের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলবে। এ সময় তিনি সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেন ও আশপাশের স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বশাক বলেন, বিটিআই মূলত নির্দিষ্ট ধরনের মশার লার্ভার বিরুদ্ধে কার্যকর একটি জৈব উপাদান। এটি লার্ভা ধ্বংসে ব্যবহার করা হয় এবং মশার জীবনচক্রের শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ তৈরি করে। ফলে নিয়মিত লার্ভা শনাক্তকরণ, প্রজননস্থল পরিষ্কার এবং প্রয়োজনীয় স্থানে বিটিআই প্রয়োগের মাধ্যমে মশার ঘনত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কার্যক্রম চলমান থাকবে। সরকারি মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকর উপায়। নিয়মিত লার্ভা শনাক্তকরণ ও ধ্বংস, প্রজননস্থল পরিষ্কার এবং জনসচেতনতা—এই তিনটি কার্যক্রম একসঙ্গে চালানো গেলে গাজীপুরে এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিরেক্টর মো. আমিনুল ইসলাম, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রহমত উল্লাহসহ করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম