Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

রাজশাহীতে সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

রাজশাহীতে সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

রাজশাহীতে সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

রাজশাহীর পুঠিয়ায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং খুচরা বাজারে সার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে প্রায় ৪০ মিনিট বানেশ্বর বাজার এলাকায় বিক্ষোভের পর ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

এতে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর কৃষকরা অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে সারের দাবিতে বানেশ্বর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন কৃষকরা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষকেরা জানান, বর্তমানে রোপা আমন মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় চলছে; কিন্তু স্থানীয় সার ডিলারদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খোলাবাজারে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, সোমবার সকালে বানেশ্বর বাজারের বিসিআইসি সার ডিলারের দোকানে সার বিক্রি শুরু হয়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে চাহিদা অনুযায়ী সার পাননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সকাল ১০টার দিকে ডিলার ওছমান আলী বলেন, সার শেষ। আমরা সার না পেলে জমি রক্ষা করব কীভাবে? সিন্ডিকেট করে আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।

তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সার ডিলার ওছমান আলী। তিনি বলেন, কৃষকরা ভিত্তিহীন অভিযোগে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন। আমাদের এখানে এখন পর্যন্ত ইউরিয়ার কোনো সংকট নেই। সবাইকে সার দেওয়া হচ্ছে।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, কৃষকদের দাবি ছিল, বর্তমানে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে আরও বেশি সার বরাদ্দ দিতে হবে। পাশাপাশি ডিলারদের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগও করেছেন তারা। কৃষকরা নিজেদের গ্রামে কীটনাশকের ডিলারদের দোকানেও সার বিক্রির দাবি জানিয়েছেন। এসব বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

তিনি বলেন, বানেশ্বরের পাশেই চারঘাট উপজেলা। চারঘাটের অনেক কৃষকও বানেশ্বরের ডিলারদের কাছ থেকে সার নেন। অথচ বানেশ্বরের ডিলারদের সার বরাদ্দ করা হয় শুধু বানেশ্বর ইউনিয়নের কৃষকদের চাহিদার ভিত্তিতে। এ কারণে এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে সার বিক্রির নিয়ম করা হয়েছে। বানেশ্বর ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সারে অন্য এলাকার কৃষকেরা যাতে ভাগ বসাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে।

ইউএনও আরও বলেন, চাহিদার ভিত্তিতেই প্রত্যেক ইউনিয়নের জন্য সার বরাদ্দ করা হয়। তাই স্থানীয় কৃষকেরা যাতে চাহিদা অনুযায়ী সার পান, সেজন্য ডিলারের দোকানে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়মিত নজরদারি করা হবে।

লিয়াকত সালমান জানান, প্রায় ১৫০ জন কৃষক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন। ৪০ মিনিট অবরোধ চলার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাদের আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম