পায়জামার ফিতা দিয়ে মৌসুমী হিজড়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মোমিন
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২ পিএম
পায়জামার ফিতা দিয়ে মৌসুমী হিজড়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মোমিন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামে তৃতীয় লিঙ্গের মৌসুমী হিজড়াকে পায়জামার ফিতা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার পূর্বপরিচিত মোহাম্মদ মোমিন ওরফে রনি শেখ। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মূলহোতা মোমিনকে নগরীর সাগরিকা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ঘাতক মোমিন ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন খুলশি থানার ওসি আবদুর রহিম।
মোমিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার সব্দলপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার পাঠানপাড়ায় ফাল্গুনী হিজড়া নামের এক নেত্রীর বাসায় থাকতেন। সেখানে তিনি ওই নেত্রীর ‘কথিত স্বামী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে একটি ভিডিও ফুটেজ জব্দ করে পুলিশ।
ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ১৪ মিনিটে সাদা টি-শার্ট পরা এক যুবক মৌসুমীর ঘরে প্রবেশ করছেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৫২ মিনিটে তাকে ওই ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়। ফুটেজটি পর্যবেক্ষণ করে ওই যুবককে মোমিন হিসেবে শনাক্ত করে তদন্ত টিম।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোমিন পুলিশকে জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন মোমিন। তৃতীয় লিঙ্গের মৌসুমীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মাঝে মাঝে তার কাছ থেকে টাকাও নিতেন। শুক্রবার জুয়া খেলেন মোমিন। জুয়ায় টাকা হারানোর পর তিনি মৌসুমীর কাছে যান। সেখানে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর টাকা চান। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পায়জামার ফিতা দিয়ে মৌসুমীর গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করেন মোমিন। পরে চুপিচুপি মৌসুমীর বাসা থেকে বের হয়ে যান।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমবাগান রেলওয়ে কলোনিতে নিজের ঘর থেকে মৌসুমীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই ঘরে একাই থাকতেন।
খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, মৌসুমীর লাশ উদ্ধারের পর হত্যার রহস্য উন্মোচনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোমিনকে শনাক্ত করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছেও ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। এছাড়া সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঘটনার দায় স্বীকার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
