এক বিষয়ে পাশ করেই ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ!
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে প্রতিনিয়ত ঘটছে ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা। কখনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই মিলছে জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনা। কখনো আবার মেয়ের পরীক্ষা দিচ্ছে ছেলে শিক্ষার্থী। আবার জালিয়াতি করে পুনঃনিরীক্ষণে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রাপ্ত নম্বর।
সম্প্রতি এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল তৈরির সময় এমন একটি ঘটনা ধরা পড়েছে। ওই শিক্ষার্থী কেবল এক বিষয়ে পাশ করেছিল। তবে সব বিষয়ে খাতায় প্রাপ্ত নম্বরের চেয়ে প্রকাশিত ফলাফলে বাড়তি নম্বর উঠায় ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ দেখানো হয়।
ঘটনা তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করেছে শিক্ষা বোর্ড। যদিও নির্ধারিত সময় পার হলেও এখনো পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট একজন পরীক্ষক পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের একটি উত্তরপত্রে প্রিন্ট আউটের (প্রকাশিত ফলাফল) নম্বরের সঙ্গে খাতার প্রাপ্ত নম্বরের অমিল দেখতে পান। খাতায় শূন্য থাকলেও প্রিন্ট আউটে ৪৫ ছিল। এই অসঙ্গতি উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আবদুল মন্নানকে চেক করতে বলা হলে তিনি কম্পিউটার সেন্টারের ডাটার সঙ্গে খাতার নম্বরের অমিল দেখতে পান।
পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ আবদুল মন্নান ও উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) প্রফেসর মোহাম্মদ দিদারুল আলম শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীকে লিখিতভাবে অবগত করেন। তখন চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়।
সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নগরীর আগ্রাবাদ সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে ওই শিক্ষার্থী বাংলা প্রথমপত্র ছাড়া সব বিষয়ে ফেল করেছে; কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে ৪ দশমিক ৯৪ জিপিএ পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে।
শিক্ষার্থীটি বাংলায় (উভয়পত্র) ‘এ’ মাইনাস (১২০ নাম্বার), রসায়নে ‘এ’ (৭৮ নাম্বার), আইসিটিতে ‘এ’ (৩৭ নম্বর) পেয়েছে এবং বাকি সব বিষয়ে ‘এ প্লাস’ পেয়েছে। ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণে এই তিন বিষয়ের নাম্বারের পার্থক্য শনাক্ত হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীর বাকি উত্তরপত্রগুলোও যাচাই করা হয় এবং সেগুলোতেও খাতায় প্রাপ্ত নম্বর ও প্রকাশিত নম্বরের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া যায়।
এর আগে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করেছিল। ওই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ফলাফল প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের দুজন প্রোগ্রামার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে আনা হয়। তাদের অনুসন্ধানে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। তারা ওই দুই পরীক্ষার্থীর বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে নতুন করে আরও ১৫ জনের তথ্য পায়, যারা আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষা না দিয়েই জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
ওই সময় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠে। পরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করা ১৭ জনের ফলাফল বাতিল করে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলের ফলাফলে ১১টি পত্রের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে মামলাও হয় এবং মামলায় চার্জশিটও দাখিল হয়।
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে এবং একাধিকবার কল করলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
