রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা
বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট রংপুর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট রংপুর। সেই সঙ্গে রংপুরসহ সারা দেশে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
সোমবার দুপুরে রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় কাছারি বাজারে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট রংপুর জেলা সমন্বয়ক ও বাসদের রংপুর জেলা আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য সীমা দত্ত, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা রজত হুদা, বাসদ (মাহবুব) কেন্দ্রীয় নেতা শওকত হোসেন আহমেদ, বাংলাদেশ জাসদ রংপুর জেলা সভাপতি শাহিনুর রহমান বাদল এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) জেলা আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বাবলুসহ অন্যরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এক সময় রংপুর ছিল শান্তিপ্রিয় ও নিরাপদ নগরী; কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই ও মাদকের বিস্তারে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যার পর নগরীর বিভিন্ন গলিতে চলাচল করতেও মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বক্তারা দাবি করেন, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে রংপুর নগরীতে অন্তত ৮ থেকে ৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দিনের বেলায় দাসপাড়ায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে একজনকে হত্যা এবং একটি অটোরিকশা গ্যারেজে একজনকে হত্যার ঘটনাও রয়েছে।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে রংপুর জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের ৪ সদস্য নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এতে পুরো একটি পরিবার নিঃশেষ হয়ে গেছে। এ হত্যাকাণ্ডে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করে এবং সংবাদ সম্মেলনে তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি তুলে ধরে।
তবে পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে বক্তারা বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলের আলামত ধুয়ে নষ্ট করার অভিযোগ এবং গ্রেফতার ব্যক্তিদের ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে হত্যার কারণ হিসেবে পুলিশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা-দুটিই জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তাদের দাবি, গ্রেফতার আসামিদের ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের প্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশের দেওয়া হত্যার মোটিভ নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, এত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সম্ভাব্য সব মোটিভ বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন; কিন্তু পুলিশের বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়া জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। তাই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে নতুন করে তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে হবে।
সমাবেশে নগরীতে মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, রংপুর নগরীর বিভিন্ন অলি-গলি মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। কোথায় মাদকের হটস্পট রয়েছে, কারা মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের পেছনে কারা পৃষ্ঠপোষকতা করছে- এসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অজানা থাকার কথা নয়। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে মাদককেন্দ্রিক অপরাধ ও হত্যাকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তারা বলেন, রংপুরসহ সারা দেশে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকের বিস্তারে মানুষের নিরাপদ জীবনযাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং এসব অপরাধ বন্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
সমাবেশ থেকে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে রংপুরের জনগণের মনে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানান নেতারা।
