বেতন বকেয়া নিয়ে শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ, ছাড়তে হলো স্কুল
Advertisement
নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
নাচোল বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক এবং তার স্ত্রী ও সহকারী শিক্ষক সাহেদা বেগমের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেতন-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ও ব্যক্তিগতভাবে মানসিকভাবে নির্যাতন এবং বিদ্যালয় ত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার প্রতিকার ও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বরাবর সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতা মো. সাদ্দাম হোসেন।
লিখিত অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে নাফিসা জাহান ইলা নার্সারি শ্রেণি থেকে ওই বিদ্যালয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন করে আসছিল। চলতি বছর সে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে সেশন চার্জ, আইসিটি ফি ও নিয়মিত বেতন পরিশোধ করে আসছিল।
গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে ডাকেন এবং বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি তুলে কটু কথা বলেন। শিক্ষার্থীর বাবার দাবি, প্রধান শিক্ষক ইলাকে বলেন, ‘বেতন পরিশোধ নাই, তবুও তুমি পরীক্ষা দিতে কেন এসেছ? স্কুলে এসে পরীক্ষা দিতে তোমার কোনো লজ্জা লাগে না?’
পরীক্ষা শুরুর আগে এমন অপমানজনক ও রূঢ় আচরণের শিকার হয়ে শিশুটি পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং এরপর থেকে আর বিদ্যালয়ে যেতে সক্ষম হয়নি। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী সাহেদা বেগম ও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শ্রেণিকক্ষে অন্যান্য সহপাঠীদের সামনে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারকে নিয়ে কটু ও মানহানিকর মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা জানান, কোমলমতি শিশুটির ওপর ধারাবাহিকভাবে মানসিক নির্যাতন চালানো সত্ত্বেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসায় কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমানে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা চলমান থাকলেও শিশুটির শিক্ষার বিষয়ে কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিদ্যালয়ের সমস্ত পাওনা পরিশোধ করে তিনি মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তির উদ্দেশ্যে স্থানান্তর সনদ (টিসি) গ্রহণ করেন।
বছরের মাঝামাঝি সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে হওয়ায় শিশুটির শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তা ও ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা সাদ্দাম হোসেন।
এ বিষয়ে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, স্কুলে পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া থাকায় ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবককে বারবার জানানোর পরও বেতন পরিশোধে উদ্যোগ নেননি। বিধায় ওই শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও অফিসে ডেকে ‘বেতন পরিশোধ নাই, তবুও তুমি পরীক্ষা দিতে কেন এসেছ? স্কুলে এসে পরীক্ষা দিতে তোমার কোনো লজ্জা লাগে না?’—এসব কথা বলতে বাধ্য হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, তবে আমার স্ত্রীর সম্পর্কে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

-6a9ff9d668d5e.jpg)