সাবেক বিএনপি নেতার বাড়ির সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা
Advertisement
কুমিল্লা উত্তর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার তিতাসে এক বিএনপি নেতার বাড়িতে গভীর রাতে বড় ধরনের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা ভারি যন্ত্রপাতি দিয়ে বসতবাড়ির ইটের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং পৈতৃক ভিটার শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলেছে।
সোমবার গভীর রাতে উপজেলার জগতপুর ইউনিয়নের উজিরাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক তিতাস উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মনিরুল হক তপন ভূঁইয়া। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, উজিরাকান্দি গ্রামে তপন ভূঁইয়ার বাড়ির তিন দিকের অংশ পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে আছে। ইটের তৈরি সীমানা প্রাচীরটি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চারিদিকে ভাঙা ইট ও কংক্রিট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।
এছাড়া ভূঁইয়া পরিবারের বহু বছরের পুরোনো নারকেল, পেঁপেসহ নানা ধরনের ফলজ ও ঔষধি গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছের ডালপালা ও গুঁড়ি ভাঙা ইটের স্তূপের ওপর এলোমেলোভাবে পড়ে রয়েছে। দেয়াল ও সামনের গাছপালা উপড়ে ফেলায় পেছনের বসতঘরটি এখন একদম অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে মুখোশ পরা ৭০-৮০ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত এক্সকেভেটর নিয়ে এসে এই তাণ্ডবলীলা চালায়। হামলাকারীদের মুখে মুখোশ থাকায় কাউকে চিনতে পারা যায়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা দেখে স্থানীয়দের মাঝে নিন্দার ঝড় বইছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই বিরোধী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে, যাতে এলাকায় ভয়ভীতি ছড়ানো যায়। জগতপুরের মরহুম আব্দুর রাজ্জাক চেয়ারম্যানের ছেলে তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইয়াছিন, জগতপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য শফিক, মহাসিন, জগতপুরের লিটনের নেতৃত্বে অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনের একটি দল এ তাণ্ডব চালায় বলে ভুক্তভোগী মনিরুল হক তপন ভূঁইয়া জানান। প্রশাসনের কাছে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী নেতা আমিনুল ইসলাম ইয়াছিন ভূঁইয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ঢাকায় থাকি। এত বড় ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে আমি জানি না। তারপরও যদি এ ঘটনায় আমার সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ তপন ভূঁইয়ার কাছে থাকে তাহলে আমি মেনে নিব।
তিতাস থানার ওসি মমিরুল হক বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
