Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

ফকিরহাটে ১০ মাসে আত্মহত্যার চেষ্টা ২৫৪ জনের, মৃত্যু ৩১

Advertisement

Icon

আবুল আহসান টিটু, ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

ফকিরহাটে ১০ মাসে আত্মহত্যার চেষ্টা ২৫৪ জনের, মৃত্যু ৩১

ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মডেল থানা ও বিভিন্ন ক্লিনিকের তথ্য সমন্বয় করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

Advertisement

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১০ মাসে বিষপান, গলায় ফাঁস ও অন্যান্য উপায়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে অন্তত ২৫৪ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। 

একই সময়ে আত্মহত্যা করে মারা গেছেন আরও ৩১ জন। আত্মহত্যার চেষ্টাকারীদের মধ্যে ১২ বছরের কম বয়সি ১৩ শিশুও রয়েছে।

ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মডেল থানা ও বিভিন্ন ক্লিনিকের তথ্য সমন্বয় করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বয়স ৯ থেকে ৭০ বছর। তাদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ নারী এবং ৭০ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ৩০ বছর।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাপ্ত হিসাবের চেয়ে বাস্তবে আত্মহত্যার চেষ্টা ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় অনেক রোগীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়, যেসব ঘটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নথিতে থাকে না। আবার সামাজিক লজ্জা ও পারিবারিক সংকোচের কারণে অনেক ঘটনাও গোপন রাখা হয়।

অথচ আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ফকিরহাটে নেই কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্যসেবা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সাইকোলজিস্ট বা প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর কর্মরত নেই। ফলে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিরা শারীরিক চিকিৎসা পেলেও ঘটনার পেছনে থাকা মানসিক সংকটের যথাযথ চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ সুকুমার ভট্টাচার্য বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টা করা ১২ বছরের কম বয়সী ১৩ শিশুর মধ্যে গলায় ফাঁস দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক, ঘুমের ওষুধ, মাল্টিড্রাগ, হারপিক, স্যাভলন ও কেরোসিন পান করার ঘটনাও রয়েছে।

ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সাগর বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩৪টি বিষপানের ঘটনায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এসব রোগীর মধ্যে নারী বেশি। বিশেষ করে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সি বিবাহিত নারীদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ও অল্প বয়সে বিয়ের কারণে বিষপানের প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও বেকারত্ব অন্যতম কারণ। 

বিষপানের ঘটনা কমাতে পারিবারিক সচেতনতা, কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা প্রয়োজন। কিন্তু এ উপজেলায় কোনো মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসক নেই, এমনকি কাউন্সেলিংয়ের জন্য প্রশিক্ষিত লোকও নেই। ফলে শারীরিক চিকিৎসা মিললেও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানসিক চাপ, হতাশা, মোবাইল ও ডিজিটাল স্ক্রিনে অতিরিক্ত আসক্তি, পারিবারিক কলহ, অপরিণত প্রেমের সম্পর্ক, যৌন নিপীড়ন, বেকারত্ব ও আর্থ-সামাজিক সংকট আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়াতে পারে। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে বাহিরদিয়া-মানসা, নলধা-মৌভোগ, লখপুর ও ফকিরহাট সদর ইউনিয়নে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত ২৭ আগস্ট বাহিরদিয়া এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবহারকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে নবম শ্রেণির ১৪ বছর বয়সি এক ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করে। স্বজনরা দ্রুত তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ায় চিকিৎসায় সে সুস্থ হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের মতে, সাময়িক মানসিক চাপ ও হতাশা থেকেই ওই কিশোরী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ জামান বলেন, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য, মানসিক চাপ, হতাশা ও বিষণ্নতার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সভা করছি। 

এসব কর্মসূচিতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, নারী ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা এবং চিকিৎসকরাও থাকছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদেরও সহানুভূতিশীল হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম