মসজিদের সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে
Advertisement
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে মসজিদের ওয়াকফ ও ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি গভীর রাতে জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতা মাওলানা মিজানুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া বাইপাস সড়কসংলগ্ন সুলতান আহমদ জামে মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ করেন মসজিদের মোতওয়াল্লি নুরুর রহমান। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর ওয়াকফ সম্পত্তি জবরদখলের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযুক্ত মাওলানা মিজানুর রহমান রাজু বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি। তবে তিনি জামায়াতের রাজনীতি থেকে মৌখিকভাবে পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেছেন।
সুলতান আহমদ জামে মসজিদের মোতওয়াল্লি নুরুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত নেতা মাওলানা মিজানুর রহমান রাজু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে লোকজন দিয়ে গভীর রাতে মসজিদের ওয়াকফকৃত ও তার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে মাটি-বালু ফেলে ভরাট করে জবরদখল করেছেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি ২০০৬ সালে নোয়াখালীর আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৪৮। পরে ওই মামলার সূত্রে ৫৭-২০০৭ নম্বর নিষেধাজ্ঞা মামলার আবেদন করা হলে আদালত ১ জুলাই ২০০৮ সালে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা জারি করেন।
নুরুর রহমানের অভিযোগ, আদালতের ওই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিজানুর রহমান রাজু গত ১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে বহিরাগতদের নিয়ে মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি ও তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি জবরদখল করে মাটি-বালু দিয়ে ভরাট করেন।
এ ঘটনায় তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করার পর ২ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক হয়। কিন্তু ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তও অমান্য করে জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান রাজু ও তার সহযোগীরা নালিশি সম্পত্তিতে মাটি ও বালু ভরাট অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ করেন নুরুর রহমান।
জবরদখলের অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী নুরুর রহমান।
এ বিষয়ে জামায়াতের ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমান রাজু জবরদখলের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি নিজের জায়গার ওপরই মাটি ও বালু ভরাট করেছেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় এলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সম্পত্তি মেপে বিষয়টি সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়। তবে জবরদখলের বিষয়টি তার জানা নেই।
