ছাতকের ৩ যুবককে কাশ্মীরে পাচার, মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ
Advertisement
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
ছাতকের ৩ যুবককে কাশ্মীরে পাচার
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের কাশ্মীরে ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার তিন যুবককে নিয়ে যাওয়ার পর আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৮ জুলাই বাড়ি থেকে ভারতের উদ্দেশে যাওয়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এ ঘটনায় এক যুবকের মা অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছাতক থানায় ও সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
নিখোঁজ তিন যুবক হলেন—ছাতক উপজেলার সৈদেরগাঁও গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সোহেল মিয়া, একই গ্রামের মৃত রুসমত আলীর ছেলে আয়াছ আলী এবং জালিয়ারপাড় গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আলাউদ্দিন। তারা সবাই দিনমজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
সোহেল মিয়ার মা মোছা. সামতেরা বেগমের অভিযোগ, একই গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিম পূর্বপরিচয়ের সুবাদে সোহেল, আয়াছ ও আলাউদ্দিনকে ভারতের কাশ্মীরে ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে গত ২৮ জুলাই তিন যুবককে বাড়ি থেকে ভারতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারতে যাওয়ার পর প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। পরে হঠাৎ করেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিম যুবকদের স্বজনদের জানান- তিন যুবক কারাগারে রয়েছেন। তাদের মুক্ত করতে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। স্বজনরা ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পরও পরে আরও ৪০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। একপর্যায়ে দাবি করা হয় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। টাকা না দিলে তিন যুবককে হত্যা বা ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার ছেলেসহ তিন যুবককে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলে সামতেরা বেগম আশঙ্কা করছেন। তাদের দ্রুত উদ্ধার ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের সঙ্গেও দেখা করে সহযোগিতা চেয়েছেন সোহেলের মা।
গত মাসের শেষদিকে ছাতক থানায় অভিযোগ করার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসেও লিখিত অভিযোগ দেন সামতেরা বেগম।
অভিযুক্ত ফারুক মিয়া বলেন, তার ছেলে ফাহিম বর্তমানে ভারতে রয়েছে। তবে তিনিও বর্তমানে ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
ছাতক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, তিন যুবককে কাজের উদ্দেশ্যে ভারতে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে আটকে রেখে টাকা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করতে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
