‘ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায়’ স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ
Advertisement
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
সোহাগী খাতুন। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভুল চিকিৎসা ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় সোহাগী খাতুন নামের এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জীবননগর উপজেলার ‘মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোমে’ ভুল অস্ত্রোপচার ও ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
মৃত সোহাগী খাতুন জীবননগর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের মোমিনুর রহমান মণ্ডলের মেয়ে। সে স্থানীয় বিসিকেএমপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
সোহাগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৪ বছর বয়সি সোহাগীকে জীবননগর উপজেলা শহরের মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোমে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম দ্রুত অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। পরদিন ২৮ আগস্ট ডা. রফিকুল ইসলাম নিজেই তার অস্ত্রোপচার করেন। ৩০ আগস্ট তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়।
বাড়ি ফেরার পর সোহাগীর প্রচণ্ড বমি, মাথাব্যথা ও তীব্র জ্বর শুরু হয়। এতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২ সেপ্টেম্বর তাকে পুনরায় ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
সোহাগীর মা লাভলী খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ক্লিনিকে নেওয়ার পর প্রথমে স্বজনদের সঙ্গে ক্লিনিকের লোকজন দুর্ব্যবহার করেন। পরে সোহাগীকে ভর্তি রেখে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর থেকে তার আর জ্ঞান ফেরেনি।
অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ডা. রফিকুল ইসলামের পরামর্শে সোহাগীকে প্রথমে যশোরের কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার বিকালে সোহাগীর মৃত্যু হয়।
সোহাগীর খালা নাসিমা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মনোয়ারা সনো সেন্টার থেকে দেওয়া আগের সব রিপোর্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঢাকার চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মেয়েটির অস্ত্রোপচার করার মতো কোনো মূল সমস্যা ছিল না। ভুল চিকিৎসা, অতিরিক্ত ঘুমের ইনজেকশন ও অবহেলার কারণেই আমাদের মেয়েটার জীবন গেল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলামের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সোহাগীর অস্ত্রোপচার তিনিই করেছিলেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলেই দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সরেজমিন তদন্ত চালিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে ওই ক্লিনিক ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

-6aa1607ccc00a.jpg)