শিক্ষার্থীর অজান্তেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন
Advertisement
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
আলীপুর রহমানিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার আলীপুর রহমানিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অজান্তেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা নিজেরা অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে দেখতে পান, তাদের এসএসসি রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে আগেই আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী জানান, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নিজে অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ইতোমধ্যে আবেদন সম্পন্ন হয়েছে অথচ ওই আবেদন তিনি নিজে করেননি।
বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষার্থী ভর্তি-সংক্রান্ত হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, কোনো মোবাইল নম্বর থেকে আবেদনটি করা হয়েছে সে তথ্য সরাসরি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ করলে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে হেল্পলাইন থেকে জানানো হয়।
পরে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি আলীপুর রহমানিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বাবরকে জানান। শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক তাকে কলেজে গেলে বিষয়টি ঠিক করে দেওয়ার কথা বলেন।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের অগোচরে তাদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে ভর্তির আবেদন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আবেদনগুলো কারা করেছে, কোনো মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে এবং কীভাবে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করে আবেদন সম্পন্ন করা হয়েছে এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরে স্কুল থেকে পাস করা এসএসসি পরীক্ষার্থীদের তাদের কলেজে একাদশ শ্রেণিতে রেখে দেওয়া উদ্দেশে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে স্কুলের শিক্ষক মো. এরশাদুল আলম ও কলেজ বিভাগের শিক্ষক শামীম আহমেদ শিক্ষার্থীদের অজান্তে এসব আবেদনগুলো করেন। এ ক্ষেত্রে তারা একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেন।
যদিও শিক্ষক মো. এরশাদুল আলম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তিনি কিছুই জানেন না। গত ২ সেপ্টেম্বর স্কুলের শিক্ষক শামীম আহমেদ বলেন যে, তার (এরশাদুল আলম) মোবাইলে ওটিপি গেছে সেটা যাতে তাকে দেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে অনলাইন আবেদনগুলোর ডিজিটাল রেকর্ড, ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের অজান্তে আবেদনগুলো কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত তা স্পষ্ট হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা নিজেরা আবেদন করার আগেই তাদের তথ্য ব্যবহার করে আবেদন করা হয়ে থাকলে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা হোক এবং তাদের পছন্দ অনুযায়ী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে আলীপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বাবরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার ব্যবহৃত মোবাইলে বারবার ফোন করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অপরাধ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শিক্ষাবোর্ডে অভিযোগসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারেন। বিষয়টি দেখবেন বলেও জানান তিনি।

-6aa156004952a.webp)