চট্টগ্রামে দুর্ঘটনা
সৈনিক রিফাতের মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোক
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ার রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় নিহত সৈনিক (গানার) তাসনিম রিফাতের (২৮) বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামে। আজ দুপুরেই পরিবারের সদস্যরা মোবাইলে তার মৃত্যুর খবর পান। এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় দুর্ঘটনাবশত ট্যাংকের ভেতরে গোলা বিস্ফোরিত হলে গানার রিফাত নিহত হন।
রিফাতের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পোঁছানোর পরপরই একে একে স্বজন ও প্রতিবেশীরা আসতে থাকেন বিন্দারামপুরের বাড়িতে।
বিকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, স্বজনদের কেউ রিফাতের বাবা আসাদুল ইসলামকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউ নিজেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। বাড়ির ভেতর থেকে ভেসে আসছে স্বজনদের আহাজারি। বাইরে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মুখেও শোকের ছাপ।
রিফাতের বাবা আসাদুল ইসলাম অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রিফাতের মা। মায়ের মৃত্যুর সেই শোক কাটিয়ে পরিবার যখন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছিল, তখনই এলো আরেকটি নির্মম খবর।
স্বজনরা জানান, চার ভাইবোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের স্বপ্নের অংশ ছিলেন তিনি। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ধীরে ধীরে পরিবারের কাছে হয়ে ওঠেন গর্বের মানুষ। তিনি সেনাবাহিনীর আর্মড কোরে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালন করছিলেন চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনে। কর্মজীবনে দায়িত্বশীল ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন রিফাত।
রিফাতের নিজেরও ছিল ছোট্ট একটি সংসার। স্ত্রী ও ছোট্ট কন্যাসন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে থাকতেন তিনি। রিফাতের মৃত্যুর খবর শোনার পর ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। রিফাত কর্মস্থলে থাকার কারণে নিয়মিত বাড়িতে আসতে না পারলেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা।
শোকে রিফাতের বাবা ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না। শুধু জানালেন, রিফাতের প্রথম জানাজা বুধবার রাত ১০টায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জসিম হলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে তার লাশ ঢাকায় নেওয়া হবে। পরে রাজশাহী সেনানিবাসে আনার পর বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

