খালার মামলা খারিজ, ৩ বছরের শিশুকন্যা বাবার জিম্মায়
Advertisement
বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
৩ বছরের শিশুকন্যা বাবার জিম্মায়
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বরগুনায় খালার করা ফৌজদারি রিভিশন মামলা খারিজ করে ৩ বছর ৪ মাসের মেয়েকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়ায় নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আদালত এ আদেশ দেন। এর ফলে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে শিশুটি তার প্রাকৃতিক ও আইনগত অভিভাবক বাবার কাছেই ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেল।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বরগুনা সদরের বাসিন্দা মো. সোলায়মানের স্ত্রী মোনালিসা জেরিন গত ২০২৫ সালের ৬ জুন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর থেকে তাদের ৩ বছরের একমাত্র মেয়ে মোসা. রুকাইয়া ইসলাম ইয়ানাকে নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে জিম্মা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। মৃত স্ত্রীর বড় বোন ভিকটিমের খালা সারমিন সুলতানা আসমা দাবি করেন, জন্মের পর থেকেই শিশুটি তার কাছে লালিত-পালিত হয়ে আসছে এবং পিতা মো. সোলায়মান শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অবৈধভাবে আটক করে রেখেছেন। এ অভিযোগে তিনি গত ২৭ মে বরগুনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
আদালতের নির্দেশে পুলিশ গত ৪ জুন শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে এবং বাদীর জিম্মায় প্রদান করে মামলাটি পরবর্তী ধার্য তারিখে আইনানুগ আদেশের জন্য রাখেন।
পরবর্তী ধার্য তারিখ গত ১৮ জুন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উভয়পক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি নথিজাত করে শিশুকে তার পিতার জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। নির্বাহী আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়ে বাদী সারমিন সুলতানা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করেন।
বুধবার রিভিশন মামলার শুনানি শেষে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখেন এবং শিশুটিকে তার বাবার জিম্মায় বহাল রেখে রায় প্রদান করেন।
বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম সোহেল জানান, মুসলিম পারিবারিক আইন এবং ১৮৯০ সালের গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট অনুযায়ী বাবা হলেন নাবালক সন্তানের স্বাভাবিক ও আইনগত অভিভাবক। বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় এবং সন্তানের হেফাজত পিতার কাছে থাকলে, তা কোনো অবস্থাতেই ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারার অধীনে ‘অন্যায় আটক’ বা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। ফলে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১০০ ধারার অধীন এ মামলাটি আদালতে চলতেই পারে না।
তিনি আরও জানান, বিবাদীর মৃত স্ত্রীর সঙ্গে পূর্বে থেকেই বাদীর বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা ও পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। বিবাদীর মরহুমা স্ত্রী জীবিত থাকাবস্থায় বরগুনা সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি এবং অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই পূর্বশত্রুতার জের ধরেই মূলত বাদী এই কাল্পনিক ও সাজানো মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
বিবাদীর মা (নাবালিকার দাদি) একজন সুস্থ-সবল ও স্নেহপরায়ণ নারী হওয়ায় বাবা ও দাদির যৌথ তত্ত্বাবধানে শিশুটি অত্যন্ত নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে লালিত-পালিত হচ্ছে। এ আদেশের মাধ্যমে আইনের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে এবং নাবালিকা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত হয়েছে।
