রাজশাহীর জুয়েলার্সে চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ৮, বিপুল স্বর্ণ উদ্ধার
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চুরির আগে টানা চার মাস রাজশাহীর সাহেববাজারে ঘোরাফেরা করেছে চক্রটির সদস্যরা। কখনো ব্যবসায়ী, কখনো ক্রেতা সেজে বিভিন্ন হোটেলে থেকেছে। নজরদারি করেছে কারুশ্রী জুয়েলার্স ও আশপাশের এলাকা। ঠিক করে নিয়েছিল ঢোকার পথ, আবার পালানোর পথও।
এরপর ১৯ জুন ভোরে পাশের একটি স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে ঢুকে দেয়াল কেটে হানা দেয় কারুশ্রী জুয়েলার্সে। চুরি করে নিয়ে যায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, রূপা ও নগদ টাকা।
ওই ঘটনায় সাত চোর ও চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেফতার সাত চোরের একজনকে খুলনা থেকে এবং ছয়জনকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় গ্রেফতার করা হয় চোরাই স্বর্ণ কেনা ব্যবসায়ী রবিউল হাসানকে (৪৫)। তার কাছ থেকে ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রূপা ও চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ১৯ জুন ভোরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল সাহেববাজারে কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে অবস্থান নেয়। আগে থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা সেখানে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকান বসিয়ে জটলা তৈরি করে। পরে পাশের একটি স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে ঢোকে। ওই দোকানের ভেতর দিয়ে কারুশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে তারা মূল দোকানে প্রবেশ করে।
পরে সিন্দুক থেকে মামলার এজাহারে দোকান মালিক তুর্য সরকারের বর্ণনামতে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ২ হাজার ২০০ ভরি রূপা, তিন বক্স স্বর্ণের নাকফুল ও নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় চক্রটি। এ ঘটনায় তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তে নেমে আরএমপির ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিট একযোগে কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, চক্রটির সদস্যরা অত্যন্ত ধুরন্ধর। তারা একটি মোবাইল ফোন একবারের বেশি ব্যবহার করে না। ব্যবহৃত সিমকার্ডও থাকে অন্য ব্যক্তিদের নামে। এমনকি যাদের নামে এসব সিম নিবন্ধিত, তাদের অনেকেই নিজেদের নামে সিম থাকার বিষয়টিও জানেন না। চক্রের সদস্যরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এবং কোনো এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করে না।
পুলিশ আরও জানায়, কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির প্রায় চার মাস আগে চক্রের সদস্যরা রাজশাহীতে এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে। ব্যবসার কথা বলে তারা দোকান ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করে। একই সঙ্গে চুরির পর নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার পথও ঠিক করে নেয়।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে বাগেরহাটের মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের রুস্তম আলী শেখকে (৬৪) খুলনা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের স্বপন (৬২), একই গ্রামের উজ্জল (৩৭), একই থানার মাধবপুরা গ্রামের রিয়াজ সুমন ওরফে গেদু (৩৯), বাগেরহাটের শরণখোলা থানার খোন্তাকাটা (জিমতলা) গ্রামের আবু তালেব (৪৫), একই থানার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের কালাম শেখ (৪৮) এবং পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের ইউনুসকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল কেনার সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল হাসানকেও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। চাঁদপুরের কচুয়া থানার সরকার বাড়ী বড়নীখোলা গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে রবিউলের হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রূপা ও চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ পাহারায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরএমপি জানিয়েছে, চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হবে।
