আরেক নারীকে মাথা থেঁতলে হত্যা, যৌনপল্লিতে আতঙ্ক
Advertisement
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে ১২ দিনের ব্যবধানে আরও এক যৌনকর্মীকে মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে যৌনপল্লির উজ্জ্বল মণ্ডলের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন।
স্থানীয়দের ধারণা, দিনের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা হুসনে আরা খাতুন (৩৫) নামের ওই যৌনকর্মীকে তার নিজ ঘরের ভেতরে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরপর দুইটি মেয়েকে হত্যার ঘটনায় যৌনপল্লিতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত হুসনে আরা খাতুন ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার মুক্তাগাছা এলাকার আবু তালেবের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তার বসতঘরে প্রবেশ করে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে তাকে হত্যা করে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাকী নামে পল্লির এক বাসিন্দা দরজা খুলে হুসনে আরাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেন। এ সময় স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ঘটনাস্থলে ক্রাইমসিন ইউনিট এসে আলামত সংগ্রহ করে। এরপর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত হুসনে আরা খাতুনের কথিত স্বামী পল্লির পল্লী চিকিৎসক মোস্তাককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
এর আগে একই যৌনপল্লিতে সোনিয়া আক্তার নামে আরেক যৌনকর্মী কথিত প্রেমিকের মারধরে আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মারা যান। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক জুয়েলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
