অংক না পারায় ৫ কিশোরীসহ ৭ শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটালেন শিক্ষক
Advertisement
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা মডেল কিন্ডারগার্ডেনের অংক শিক্ষক ৫ কিশোরীসহ ৭ জনকে পিটিয়ে আহত করেছেন। শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে দগদগে ক্ষত ও দাগ নিয়ে ৭ শিক্ষার্থী এখন লোকলজ্জায় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অভিযুক্ত অংক শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল ভবনের ক্লাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে আহত এক শিক্ষার্থীর পিতা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা মডেল কিন্ডারগার্টেনের ৫ম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী কিশোরী সুমাইয়া, জেসমিন, হামিদা, ঐশি হক, রওজা, মাহি, খুশি প্রতিদিনের মতো স্কুলে উপস্থিত হয়। বাংলা, ইংরেজি ক্লাশ শেষ হওয়ার পর ক্লাশে আসেন অংক শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন আকন্দ। তিনি ক্লাশে এসেই শিক্ষার্থীদের কয়েকটি অংক করতে দেন। এতে ক্লাশের দুই-একজন অংক সঠিকভাবে করতে পারে; কিন্তু অংকটি এর আগে না শেখানোর কারণে অনেকেই সেটি সঠিকভাবে করতে পারেনি।
এতে ক্ষুব্ধ হন ওই শিক্ষক। তিনি রাগান্বিত হয়ে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন কিশোরী মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে। এতে ৭ শিক্ষার্থীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরে অবস্থা বুঝতে পেরে শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন স্কুল ছেড়ে পালিয়ে যান।
দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাড়িতে গিয়ে বাবা ও মাকে জামা-কাপড় খুলে ক্ষতস্থান দেখিয়ে কেঁদে কেঁদে শিক্ষার্থীরা বলে- আমরা আর ওই স্কুলে যাব না।
এদিকে লোকলজ্জায় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে জানান এক অভিভাবক এনামুল হক। তিনি এর বিচার দাবি করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অংক না পারায় তিনি লাঠি নয়, কঞ্চি দিয়ে মারপিট করেছেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাজাহান সরদার বলেন, বিষয়টি সুরাহা করতে তারা স্কুলে বৈঠক করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি জানান, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
