Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

বইপ্রেমি সাবেক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে বইয়ের ভাণ্ডার

Advertisement

Icon

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম

বইপ্রেমি সাবেক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে বইয়ের ভাণ্ডার

শিক্ষাবিদ আ ন ম শামছুল ইসলাম

Advertisement

বই মানুষের পরম বন্ধু। সেই বন্ধুত্ব যদি রূপ নেয় কয়েক দশকের সাধনায় গড়ে ওঠা বিশাল এক সংগ্রহে, তাহলে তা হয়ে ওঠে বিস্ময়ের। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও বরেণ্য শিক্ষাবিদ আ ন ম শামছুল ইসলাম—যিনি এলাকায় ‘নাসের প্রফেসর’ নামে সর্বজন শ্রদ্ধেয়—তার বাড়ি যেন তেমনই এক বিস্ময়কর বইয়ের ভাণ্ডার।

রামগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুরের নূর মোহাম্মদ পাটোয়ারী বাড়িতে তার বসতঘরের প্রায় প্রতিটি কক্ষেই এখন বই আর বই। দীর্ঘ কয়েক দশকের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যক্তিগত এই সংগ্রহে রয়েছে বিরল, দুষ্প্রাপ্য ও ব্যতিক্রমধর্মী অসংখ্য বই; যার আনুমানিক মূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

সাবেক এই প্রবীণ সাংসদ বলেন, শৈশব থেকেই বই সংগ্রহের নেশা আমার। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় বই কেনা শুরু করি। পাঠকের মতো শুধু পড়ার জন্য নয়, বিরল ও দুষ্প্রাপ্য বই খুঁজে বের করে সংগ্রহ করাই হয়ে ওঠে আমার অন্যতম নেশা। সময়ের সঙ্গে সেই সংগ্রহই আজ বিশাল এক ব্যক্তিগত গ্রন্থ ভাণ্ডারে রূপ নিয়েছে।

আ ন ম শামছুল ইসলাম ১৯৬৮ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত রামগঞ্জ সরকারি কলেজে অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯৪ সালের ২২ আগস্ট রামগঞ্জ দল্টা কলেজে যোগ দেন এবং ১ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। প্রায় ১০ বছর সফলভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের পর এক সিনিয়র শিক্ষকের কাছে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব হস্তান্তর করে অবসরে যান।

তিনি আরও বলেন, রামগঞ্জ সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করার সময় থেকেই বই সংগ্রহের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায় আমার কাছে। প্রায় প্রতি বছর শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক দল কলেজ পরিদর্শনে আসত। তখন কলেজের সমৃদ্ধ লাইব্রেরি দেখানোর জন্য বিভিন্ন শিক্ষকের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে বই এনে লাইব্রেরিতে সাজিয়ে রাখা হতো। কলেজের মান ও শিক্ষার পরিবেশ ধরে রাখার তাগিদে তখন থেকেই   বই সংগ্রহে মনোযোগী হই।

শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন আলোচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৮৫ সালে রামগঞ্জ উপজেলার প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ১৯৮৬ সালের ৭ মে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রামগঞ্জ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি স্বাধীনতা-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ের প্রথম এমপি আব্দুর রশিদকে পরাজিত করেন। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে তিনি রামগঞ্জের দ্বিতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষার প্রতি তার অনুরাগের ছাপ রয়েছে পরিবারেও। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। দুই মেয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বড় মেয়ে বর্তমানে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ছোট মেয়ে ঢাকার একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। বর্তমানে অধ্যাপক শামছুল ইসলাম ছোট মেয়ের সঙ্গেই থাকেন।

তার একমাত্র ছেলে যুক্তরাজ্যে এমবিএ সম্পন্ন করে সেখানেই পরিবার নিয়ে স্থায়ী হয়েছেন এবং ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়েছেন। তার স্ত্রী ছিলেন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অবসর গ্রহণের পর ২০২০ সালে তিনি মারা যান।

বরেণ্য এই শিক্ষাবিদ হতাশা নিয়ে বলেন, এখন তো আর পড়ালেখা নাই। এখন শুধুই রাজনীতি। দেশ জাতির মৌলিক সমস্যা কোথায় তা আর খোঁজার লোক কই!

তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল মাদক মোবাইলের নেশায়। পড়বে কখন! বই পড়ারই তো সময় নাই আবার বই কিনবে, সংগ্রহ করবে! এগুলো এখন শুধুই কল্পনা। 

কয়েক দশকের অধ্যয়ন, সংগ্রহ ও জ্ঞানপিপাসার ফসল হিসেবে গড়ে ওঠা এই ব্যক্তিগত গ্রন্থ ভাণ্ডার এখন শুধু একটি পরিবারের সম্পদ নয়; এটি রামগঞ্জের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসেরও এক অনন্য নিদর্শন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম