ফরিদপুরে প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করে মহাসড়কে বাস থেকে চাঁদা আদায়
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুর সদরের অন্যতম প্রবেশদ্বার রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকায় বাস আটকে চলছে চাঁদা আদায়। দুই শ্রমিক সংগঠনের নামে প্রতি বাস থেকে নেওয়া হচ্ছে ৬০ টাকা। প্রশাসন চাঁদাবাজি বন্ধ করলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের টাকা তুলতে দেখা গেছে কয়েকজনকে।
সকালে রাজবাড়ী রাস্তায় গিয়ে দেখা গেছে, মোড় পার হতেই দুই পয়েন্টে দূরপাল্লা এবং অভ্যন্তরীণ রুটের বাসগুলোকে লাল পতাকা উঁচিয়ে আটকিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তাদের হাতে রয়েছে রসিদ বই।
প্রতি বাস থেকে দুই সংগঠনের নামে ৩০ টাকা করে মোট ৬০ টাকা আদায় করছেন তারা। তা না দেওয়া পর্যন্ত ছাড়া হচ্ছে না।
এই টাকা কেন তোলা হচ্ছে- জানতে চাইলে তাদের একজন মজনু শেখ বলেন, সারা দেশেই শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে টাকা উঠানো হয়। আমরাও শ্রমিকদের জন্যই বাস থেকে ৬০ টাকা করে ওঠাচ্ছি। আহত-নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে সহায়তার জন্য এই টাকা তোলা হচ্ছে। আমরা বুধবার থেকে এ কার্যক্রম শুরু করেছি। এটা আমার শ্রমিক ভাইদের কল্যাণেই ব্যয় হবে।
ফরিদপুর মোটর শ্রমিক ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ১০৫৫ নামের সমিতিরই দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে এই টাকা তোলা হচ্ছে বলে জানালেন তিনি ও তার সঙ্গে থাকা অন্যরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসচালক বলেন, এমনিতেই যাত্রী সংকট এবং তেলের দামের কারণে আমাদের ট্রিপ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর মোড়ে মোড়ে এভাবে ৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব টাকার একটা অংশও সাধারণ শ্রমিকদের কোনো কল্যাণে আসে না।
ওই বাসের কয়েক যাত্রীর আশঙ্কা, এভাবে পথে পথে টাকা তোলা হলে খরচ উঠাতে ভাড়া বাড়াবেন পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা। চাঁদাবাজির চাপ পড়বে যাত্রীদের পকেটে।
ফরিদপুর মালিক সমিতির প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেনের ভাষ্য, বুধবার তারা চাঁদা তোলা শুরু করলে আমি তাদের মানা করি। তারা সেটা বন্ধও করে। এরপর তাদেরকে আমাদের এখানে আসতে বলেছিলাম, তারা আসেনি। এভাবে চাঁদা তোলার কোনো নিয়ম সড়কে নেই। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
