মায়ের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্ত চিন্ময়
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
মায়ের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্ত চিন্ময়
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মৃত্যুর আগে কারাবন্দি ছেলেকে একনজর দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী দাস। হাসপাতালের বেডে শুয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে সরকারের সর্বোচ্চপর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। সর্বশেষ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে বুধবার প্যারোলে মুক্তির আবেদনও করা হয়েছিল পরিবারের পক্ষ থেকে।
কিন্তু জীবিত স্বজনকে দেখতে প্যারোলে মুক্তির বিধান না থাকায় সেই আবেদন নাকচ করেছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বৃহস্পতিবার সকালে সন্ধ্যা রানী দাসের মৃত্যুর পর দ্বিতীয় দফা আবেদনে চিন্ময় কৃষ্ণের প্যারোলে মুক্তি মিলে। ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক।
এদিকে প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য কারাবন্দি ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করা হয়। কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাটহাজারীর পুন্ডরিকধামে। সেখানে শেষ বিদায়ে মায়ের সঙ্গে হয় চিন্ময় দাসের শেষ দর্শন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পুন্ডরিকধামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিন্ময় দাসের মা সন্ধ্যা রানী মারা যান। তিনি ক্যানসারসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং প্রায় দুই মাস ধরে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ কারাগারে আটক আছেন ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে। ওই বছরের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলাটি করেছিলেন ওই সময়ে নগরের চান্দগাঁও থানার মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান।
ওই মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে চিন্ময় দাসকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন নাকচ করা হয়। এ সময় তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যে আদালত-সংলগ্ন এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নামে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে ওই মামলায়ও চিন্ময় দাসকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। এছাড়া হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের করা তিনটি এবং আলিফের ভাইয়ের করা একটি মামলাসহ কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
