যশোরে যুবদলের এক নেতাকে অব্যাহতি, আরেক নেতাকে চূড়ান্ত সতর্ক
Advertisement
যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৮ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যশোরের শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদ ওরফে গোল্ড শহীদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পৃথক এক সতর্কীকরণ চিঠিতে যশোর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানাকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির (দপ্তরের দায়িত্বে) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার দায়ে যশোরের শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম শহীদকে স্বপদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
অন্যদিকে, পৃথক এক সতর্কীকরণ চিঠিতে যশোর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানাকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার পরও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন মর্মে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নিকট একাধিক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। সংগঠনবিরোধী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আপনাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ জাতীয়তাবাদী যুবদলের জন্য যেমন দুঃখজনক, তেমনি তা বিব্রতকরও বটে। দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী এহেন অনৈতিক কার্যক্রম থেকে বিরত থেকে সতর্কতার সাথে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আপনাকে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা হলো।’
এর ব্যত্যয় হলে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির নির্দেশে ওই পত্র ইস্যু করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
জানা যায়, চলতি বছরের ৪ মে যশোর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা ও যশোরের শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম শহীদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি।
ওই শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘আপনারা জেলা ও উপজেলা যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে থেকেও মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালানসহ নানা গর্হিত অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন। একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বেআইনি, অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ঘোর বিরোধী এবং আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী সংগঠন হিসেবে যুবদলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ জাতীয় নেতিবাচক সংবাদ জাতীয়তাবাদী যুবদলের জন্য যেমন দুঃখজনক, তেমনি বিব্রতকরও। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বেআইনি কর্মকাণ্ড চালানোর ন্যূনতম সুযোগও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলে নেই।
এমতাবস্থায়, সংগঠনবিরোধী এহেন গর্হিত কর্মকাণ্ডের জন্য আপনাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।’
