বন্যায় রান্নার জায়গা না পেয়ে, না খেয়ে দিন পার করছেন চরের মানুষ
Advertisement
আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী)
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
বন্যায় রান্নার জায়গা না পেয়ে, না খেয়ে দিন পার করছেন চরের মানুষ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
৭৫ বছর বয়সি আকলিমা বেগম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা। ঘরে খাবার আছে, কিন্তু রান্না করার মতো কোনো জায়গা নেই। পানিতে তুলিয়ে গেছে। পেট আছে খেতে হবে। কোনো উপায় নেই। ঘরের বাইরে পানির মধ্যে একটি চকি রাখা আছে। এই চকির উপরে দুপুরের খাবারের রান্নার ব্যবস্থা করতে দেখা গেছে আকলিমা বেগম নামমের ওই বৃদ্ধাকে।
আকলিমা বেগম কালিদাসখালী চরের একজন বাসিন্দা। আকলিমা বেগমের মতো অনেকেই রান্না করার জায়গা না পেয়ে, না খেয়ে দিন পার করছেন।
জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের চকরাজাপুর, কালিদাসখালী, লক্ষীনগর, দাদপুর, নিচ পলাশি, পলাশি ফতেপুর, আতারপাড়ায়, চৌমাদিয়ায়া, দিয়ারকাদিরপুরসহ ১৫টি চরে ১ হাজার ২০০ পরিবারে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
এছাড়া ফলাশি ফতেপুর, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা অন্যস্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
এ বিষয়ে আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা ভাঙতে ভাঙতে শেষপর্যন্ত নদীগর্ভে চলেই গেল স্কুলটি। পদ্মার চরের মধ্যে আজ স্কুল ভালো দেখে গেলাম, কাল এসে দেখতে হবে স্কুল নেই। শেষ পর্যন্ত স্কুল স্থানান্তর করতে করতে বিলীন হয়ে গেল। এ স্কুলে শিক্ষার্থী রয়েছে ৮৫ জন। শিক্ষক রয়েছে ৩ জন।
এ বিষয়ে চৌমাদিয়া চরের সোলেমান মোল্লা বলেন, পদ্মায় ক্রমাগত পানি বৃদ্ধিতে পাচ্ছে। ফলে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মানুষ। এছাড়া ভাঙনের কবলে পড়েছেন ১৫টি চরের মানুষ।
চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো পরিস্থিতি নেই, তাই পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এ বিদ্যালয়ে ৯১ জন শিক্ষার্থী ও ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, নদীভাঙন ও বন্যার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দিদের সহযোগিতার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
