এআই দিয়ে নারীর আপত্তিকর ছবি, সাবেক স্বামী গ্রেফতার
Advertisement
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম
মধুপুর থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাবেক স্ত্রীর ভুয়া আপত্তিকর ছবি তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগে রাসেল রানা (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। থানায় মামলার এক সপ্তাহের মাথায় মৌলভীবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার রাসেল রানা মধুপুর উপজেলার বেরিবাইদ ইউনিয়নের চুনিয়া গ্রামের মো. রুহুল আমিনের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৫ জুলাই ওই নারীর সঙ্গে রাসেল রানার বিয়ে হয়। দাম্পত্য কলহের জেরে ২০২৪ সালের ১ মে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর ওই নারী দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের পর রাসেল তার সাবেক স্ত্রীকে নানাভাবে হেনস্তা ও বিব্রত শুরু করেন। বিভিন্ন ছবি সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া আপত্তিকর ছবি তৈরি করেন। এসব ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারী ও তার বর্তমান স্বামীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২০ জুলাই রাতে তৈরি করা ভুয়া ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ওই নারী গত ১৭ আগস্ট মধুপুর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আদালতে মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, মধুপুর থানায় ১ সেপ্টেম্বর মামলা এফআইআর হয়। মামলার পর রাসেল আত্মগোপনে চলে যান। গ্রেফতার এড়াতে তিনি বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন, মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন এবং নতুন সিম ব্যবহার করে নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করতেন। একপর্যায়ে মৌলভীবাজারের একটি পোলট্রি ফার্মে কাজ নেন।
পুলিশের তথ্যমতে, ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নাদামপুর বাজারসংলগ্ন ওই পোলট্রি ফার্মের কর্মচারীদের থাকার কক্ষ থেকে রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, ওই মোবাইল ফোনে এআই দিয়ে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুপুর থানার এসআই মো. সেলিম সিকদার বলেন, ১০ সেপ্টেম্বর বিকালে রাসেল রানাকে টাঙ্গাইল জেলা আদালতে হাজির করা হয়। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
