স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করতেই পালালেন স্বামী
Advertisement
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
মৃতের স্বজনদের আহাজারি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে স্বামী পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে। পরে স্থানীয়রা ঘাতক স্বামীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করতেই দ্রুত সেখান থেকে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।
মৃত শাহিনা আক্তার (২২) সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে। তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম (২৭) পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের বাসিন্দা।
হাসপাতালের কাগজপত্রে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে অসুস্থ স্ত্রী শাহিনাকে নিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। ওই সময় শাহিনা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ইসিজি করার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে এ খবর শুনে স্বামী সিয়াম হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তার আচরণে সন্দেহ হলে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি কৌশলে সবার নজর এড়িয়ে প্রাইভেটকার নিয়ে দ্রুত হাসপাতাল এলাকা ত্যাগ করেন।
খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ শাহিনার লাশ থানায় নিয়ে যায়। এ অবস্থায় সিয়াম নিজ বাড়িতে গেলে গ্রামবাসী তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে সাদুল্লাপুর উপজেলার বাসিন্দা মৃতের মা রহিমা খাতুন বাদী হয়ে ঘাতক জামাতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সারোয়ারে আলম বলেন, মৃতের মা থানায় অভিযোগ করেন- তার মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর হাসপাতালে লাশ ফেলে পালিয়ে যান জামাতা। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
