Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

মাত্র ৬০ হাজার টাকায় ভবন বিক্রি করেন মাদ্রাসা সুপার

Advertisement

Icon

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

মাত্র ৬০ হাজার টাকায় ভবন বিক্রি করেন মাদ্রাসা সুপার

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন ছাড়াই মাদ্রাসার ৯০ ফিট সেমিপাকা ভবন, ৪৫ ফিট টিনশেড এবং অন্য একটি ভবনের একাংশ বিক্রির নামে জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করেছেন গুরুদাসপুরে ঝাউপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনি। এগুলো তিনি মাত্র ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। 

নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ, টিউশন ফি আত্মসাৎ, শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেলের ফাইল আটকে রাখা এবং চেক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। 

প্রশাসনিক নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে নিজস্ব নিয়মেই প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন তিনি। ভারপ্রাপ্ত সুপারের এমন স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ২২ জুলাই ইউএনও ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ফাহমিদা আফরোজের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। 

অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি ইউএনও এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার সরেজমিন মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন।

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন ছাড়াই মাদ্রাসার ৯০ ফিট সেমিপাকা ভবন, ৪৫ ফিট টিনশেড এবং অন্য একটি ভবনের একাংশ বিক্রির নামে জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করেছেন। এগুলো তিনি মাত্র ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পূর্ববর্তী কমিটির রেজুলেশনের অজুহাত দিলেও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি। 

এছাড়া মাদ্রাসার ৩৭ শতাংশ ফসলি জমি সাড়ে ৫ লাখ টাকায় কট রাখা, সোয়া ৮ শতাংশ লিচু বাগান ৩৮ হাজার টাকায় লিজ এবং মাঠের আরও সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি লিজ দিয়ে অর্জিত অর্থের কোনো হিসাব তিনি দেখাতে পারেননি। 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আব্দুল গনির নিজস্ব নিয়োগ প্রক্রিয়াও ত্রুটিপূর্ণ। ১৯৯৫ সালের ১২ জুলাই এক নিয়োগপত্রের মাধ্যমে তাকে একই সঙ্গে ‘সহসুপার’ ও ‘সিনিয়র মৌলভি’ হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা বিধিবহির্ভূত। তাছাড়া শিক্ষাজীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগ থাকলেও তিনি বহাল তবিয়তে চাকরি চালিয়ে যাচ্ছেন। 

অনিয়মের এখানেই শেষ নয়; ২০২০ সালে তিনি ইবতেদায়ি শাখার কনিষ্ঠ মাওলানা মাহফুজুর রহমানকে বিধিলঙ্ঘন করে দাখিল শাখায় জ্যেষ্ঠ মাওলানা পদে পদায়ন করেন। পরবর্তীতে তাকে শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক হিসাবে সরকারি বেতন-ভাতা পাইয়ে দেওয়া হয়, অথচ ওই পদে ইতোমধ্যেই একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মরত ছিলেন।

সাবেক অ্যাডহক কমিটির সভাপতি সেলিম রেজাও জানান, তার মেয়াদে ভবন বিক্রি বা জমি লিজের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং এর দায়ভার পুরোপুরি সুপারের। ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনি দাবি করেন, তিনি যা করেছেন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই করেছেন এবং নতুন ভবন পাওয়ার কারণেই পুরোনোটি ভাঙা হয়েছে। 

তবে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার জানান, পরিদর্শনে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 

ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, অনিয়মের কারণে তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পর্যালোচনার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম