স্ত্রীর দেওয়া তালাক সইতে না পেরে যে কাণ্ড করলেন যুবক
Advertisement
কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্বামীকে তালাক দেওয়ায় বাবার বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার নিজামকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার নিজামকান্দি গ্রামের আহাদ আলী মোল্যার মেয়ে ইয়াসমিন খানমের (২৪) সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে একই এলাকার লাভলু মোল্যার ছেলে লাল্টু মোল্যার (২৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ইয়াসমিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন লাল্টু। একপর্যায়ে প্রায় দেড় মাস আগে ইয়াসমিন তার স্বামীকে তালাক দেন। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
তালাকের পর থেকেই লাল্টু মোল্যা বিভিন্ন সময় ইয়াসমিন ও তার পরিবারের লোকজনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১২টার দিকে লাল্টু মোল্যা ইয়াসমিনের বাবার বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করেন। এর পর তিনি বাড়ির উঠানে থাকা খড়ির পালায় আগুন ধরিয়ে দেন।
বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে ডাক-চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও খড়ির পালা পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ১৫ দিন আগেও লাল্টু বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার সময় রাস্তায় লোকজন উপস্থিত থাকায় ওই সময় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
ইয়াসমিনের বড় ভাই সৌদিপ্রবাসী তারিকুল ইসলাম বলেন, আমার বোন ইয়াসমিনকে বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী লাল্টু শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় দেড় মাস আগে আমার বোন তাকে তালাক দেন। এরপর থেকেই সে আমাদের বাড়িতে থাকছে। তালাক দেওয়ার পর আমার বোন ও আমাদের পরিবারের লোকজনকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। গত বুধবার রাতে আমাদের বাড়ির উঠানে থাকা খড়ির পালায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগেও আমাদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাল্টু মোল্যার সঙ্গে মোবাইলে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। অহেতুক আমাকে দোষারোপ করছে।
কাশিয়ানী থানার ওসি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
