Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি শিক্ষার্থীদের

Advertisement

Icon

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি শিক্ষার্থীদের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়েছেন কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

Advertisement

এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়েছেন কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে পৃথক স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে কনসার্ট বন্ধের দাবি জানায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের এ সংগঠনটি। 

এর আগে গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির আগমন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজানো নিয়ে পার্শ্ববর্তী জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা পরদিন (১৯ আগস্ট) তাদের পরীক্ষা আছে এবং উচ্চ শব্দে গান বাজানোর ফলে তাদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে সাউন্ড কমাতে বলে। এ নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ ঘটনায় কয়েজন পুলিশ সদস্যসহ ৩০ মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হন। 

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের স্মারকলিপিতে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম, ইলম, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় মূল্যেবোধের এক সমৃদ্ধ জনপদ। এ জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনসাধারণের ধর্মীয় অনুভূতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এমন একটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নবীনবরণ উপলক্ষে গানের কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আমরা অবগত হয়েছি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনদের বরণ অবশ্যই আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হতে পারে, তবে সেই আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়- এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়া অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন কনসার্ট ও গানের অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে এ ধরনের আয়োজনকে ঘিরে জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুজায়েল আহমেদ খান বলেন, আমাদের মূল বিষয়গুলো স্মারকলিপিতে তুলে ধরেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো বলেছেনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা বন্ধের মতোই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বিষয়ে কথাটা বলেছিলেন যে, ৩০ জন ছাত্র আহত হয়েছিল। ৩০ জন ছাত্র আহত হয়েছিল এই কনসার্টের কারণেই। এক মাসও যায়নি, এর মধ্যেই আবার কনসার্ট করতে চাচ্ছে, তাহলে বিষয়টা এমন হয়ে গেল না কাঁটা গায়ে নুনের ছিটা দিচ্ছে? ৮-৯ বছর আগেই এই নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধ হয়েছিল এটি বন্ধের মূল কারণ ছিল- নাচগানের মধ্যে এক মেয়ে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছিল। যে কারণে কনসার্ট বন্ধ হয়েছিল। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ. কে. এম. ওবায়দুল হক বলেন, আমি অফিসিয়ালি অবগত নই। ওনারা আমাদের কাছে আসেননি। যদি আমাদের অবগত করেন আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব। আর এটা ওভাবে কনসার্ট না, আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব। আমাদের তিনটা কর্মসূচি আছে। নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মে কওমি শিক্ষার্থীদের বাধায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দর্শকপ্রিয় সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’র প্রদর্শনীও বন্ধ করা হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম