Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

কোটি টাকার স্বর্ণ ছিনতাই

পুলিশ সদস্যসহ গ্রেফতার ২, উদ্ধার ২০ ভরি স্বর্ণ

Advertisement

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

পুলিশ সদস্যসহ গ্রেফতার ২, উদ্ধার ২০ ভরি স্বর্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা

Advertisement

চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাজশাহীর এক ব্যবসায়ীর কোটি টাকা মূল্যের ৪০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। পরে পুলিশ কনস্টেবল জাকিরসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া ২০ ভরি স্বর্ণ।

শনিবার দিবাগত রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন রাজশাহীর স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিঝুম।

কনস্টেবল জাকির মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি। পাশাপাশি মামলায় আসামি করা হয়েছে বাদীর ভগিনীপতি ও স্বর্ণের বাহক মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলে নয়নকে। এছাড়া আরও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে- আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক কোটি টাকার স্বর্ণ ছিনতাই করেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর শনিবার রাতেই এজাহারভুক্ত আসামি কনস্টেবল জাকির হোসেন ও বাদীর ভগিনীপতি মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোহাম্মদ আলীর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জর সদর থানার চকআলমপুর গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ রোববার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার দুপুরেই তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের রিমান্ডের আবেদনও জমা দিয়েছেন আদালতে।

গ্রেফতারের পর কনস্টেবল জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর শ্যামপুর গ্রামে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মরাপাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজের পাশে গত ৮ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের এই ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে আরও জানা যায়, রাজশাহীর ব্যবসায়ী নিঝুম গত ৮ আগস্ট ৪০ ভরি স্বর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তরের জন্য ভগিনীপতি মোহাম্মদ আলীকে পাঠান। ঘটনার দিন বিকালে মরাপাগলা নদীর উপর কালিনগর ব্রিজের কাছে সাদা পোশাকে স্বর্ণ ছিনতাই করেন কনস্টেবল জাকির। ঘটনাস্থলের আশপাশ ও পথের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে কনস্টেবল জাকিরকে শনাক্ত করা হয়। এছাড়া জাকিরের সঙ্গে স্বর্ণ বহনকারী মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলে নয়নের ফোনালাপের কলরেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। এতে দেখা যায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্বর্ণ ছিনতাই করেন তারা। ঘটনা তদন্তের ভার পড়ে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাতের ওপর। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার মোহাম্মদ আলী পুলিশকে ২০ ভরি স্বর্ণ দেওয়ার সময় জানিয়েছেন- বাকি ২০ ভরি স্বর্ণ আছে পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনের কাছে। তিনিই স্বর্ণের চালানটি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জাকিরকে আগেই জানিয়েছিলেন। কিভাবে ছিনতাই করতে হবে তাও বলেছিলেন। এই ছিনতাই পরিকল্পনায় তার ছেলে নয়নও জড়িত। স্বর্ণ হস্তান্তরের সময় জাকির অভিযানের নামে ওই স্বর্ণ ছিনিয়ে নেন। ঘটনার রাতেই তারা ৪০ ভরি স্বর্ণ ২০ ভরি করে ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মোহাম্মদ আলী।

এদিকে ঘটনার দিন সিসি ক্যামেরার ফুটেজে জাকির হোসেনসহ দুজনকে তার অ্যাপাচি মোটরসাইকেল নিয়ে কালিনগর ব্রিজের দিকে যেতে দেখা যায়। ঘটনার দিন, আগের দিন ও পরদিন মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলে নয়ন সঙ্গে অসংখ্যবার মোবাইলে কথা হয়েছে জাকিরের। এর মধ্যে ঘটনার দুই দিন আগে ৬ আগস্ট জাকির তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে নয়নের মোবাইল নম্বরে ১০ বার কথা বলেছেন। আগের দিন ৭ আগস্ট একই নম্বরে জাকির কথা বলেছেন ২৫ বার। ঘটনার দিন মোহাম্মদ আলীর নম্বরেও জাকির কথা বলেছেন ৭ বার। ঘটনার দিন ৮ আগস্ট জাকির ও নয়নের মোবাইলে কথা হয়েছে ১০ বার। একই দিন নয়নের বাবা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে জাকিরের কথা হয়েছে ১১ বার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ রোববার দুপুরে জানিয়েছেন, জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বাহক মোহাম্মদ আলী স্বর্ণ বের করে দিলেও কনস্টেবল জাকির এখনো দেননি। এই স্বর্ণ উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর ‘কোটি টাকার স্বর্ণ ছিনতাই করে লম্বা ছুটিতে কনস্টেবল জাকির’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম