না.গঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপুর নেতৃত্বে মালিক সমিতির সভাপতিকে মারধর
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জ শহরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে দোকান মালিক সমিতির সভাপতিকে তার দোকানে ঢুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে চাষাঢ়ায় সায়াম প্লাজার নিচতলায় ‘হাইমুন কসমেটিকস’ নামে একটি প্রসাধনী পণ্য বিক্রির দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার ৬০ বছরের হাসান ইমাম শহরের চাষাঢ়ার বাসিন্দা। তিনি জেলা দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি এবং সায়াম প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি।
মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। সেখানে দেখা যায়, মহানগর বিএনপির নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে একদল যুবক দোকানটিতে ঢোকেন। তারা হাসান ইমামকে চর-থাপ্পড় মারছেন বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।
ঘটনার সময় দোকানেই ছিলেন হাসান ইমামের ছোটভাই মো. জুয়েল। তিনি বলেন, টিপুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী দোকানটিতে আসেন। পরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে দোকানের ভেতরেই হাসানকে মারধর করেন টিপু ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা।
জুয়েল অভিযোগ করেন, আমার বড়ভাই দোকান মালিক সমিতির সভাপতি। উনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী কিংবা নেতা নন। তাকে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মারধর করা হয়েছে।
এদিকে মারধরের ঘটনার পর হাসান ইমাম রাতে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানান তার ছেলে হাইমুন হাসান। তিনি বলেন, আমার বয়স্ক বাবাকে অনেকগুলো চর-থাপ্পড় ও ঘুসি মেরেছেন। রাত ৩টার দিকে তিনি হঠাৎ অনেক বমি করতে থাকেন। অসুস্থ অবস্থায় রাতেই তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থা কিছুটা সুস্থ হলে সকালে তাকে আবার বাড়িতে আনা হয়েছে বলে জানান ছেলে হাইমুন। এ ঘটনায় তারা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবছেন বলে জানান।
এদিকে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু দাবি করেন, হাসান ইমাম আওয়ামী লীগের সরাসরি কোনো কমিটিতে না থাকলেও সে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির একজন অর্থ জোগানদাতা। সাম্প্রতিক সংগঠনটির ব্যানারে মিছিলগুলোতে অর্থায়ন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন টিপু। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসান ইমামের পরিবারের সদস্যরা।
মারধরের বিষয়ে টিপু বলেন, সে হলো আজমেরী ওসমান ও শাহ নিজামের লোক। বিগত দিনে সে অনেক অপকর্ম করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের দিনেও ওসমান পরিবারের সঙ্গে থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। সে গুলশানের মতো আরেকটা মিছিল নারায়ণগঞ্জে করার জন্যও ফান্ডিং করেছে। এমন খবর পেয়ে আমি ও সঙ্গে কয়েকজন লোক দোকানে গিয়েছিলাম। সেখানে উত্তেজনাবশত কয়েকজন তাকে চর-থাপ্পড় দিয়েছে সত্য; কিন্তু আমিই তাদের আবার থামিয়েছি।
মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন বলে জানান সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান। তবে এ ঘটনায় কেউ থানায় মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ করেননি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ভিডিওটি ফেসবুকে দেখেছি। এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
