পঞ্চগড়ে বিএনপির দু'গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫
Advertisement
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পঞ্চগড়ে জেলা বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে।
জানা গেছে, রোববার সকালে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদের উপস্থিতিতেই বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের ইঙ্গিতপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদান করেন।
বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও তুমুল হট্টগোল হয়। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে দিনব্যাপী উত্তেজনা বিরাজ করে। এরই ধারাবাহিকতায় রাতে এক পক্ষ মিছিল বের করলে অপর পক্ষও মিছিল বের করে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ওই সময় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের এম আর সরকারি কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া ও পালটা ধাওয়া শুরু হয়।
এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষই লাঠিসোঁটা নিয়ে তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা জাতীয় মহাসড়কে অবস্থান নেয়। ফলে ২ ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় শত শত যানবাহন মহাসড়কে আটকা পড়ে।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রেজওয়ানুল্লাহ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনকে রংপুর মেডিক্যালে রেফার করা হয়েছে। আহতদের মাথা, হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আহতরা হচ্ছেন রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবীর (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী (৩৮)। এরা সবাই বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সমর্থক।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ ই মী ইমতিয়াজ জানান, ঘটনার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আর এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

