Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

রাস্তা নির্মাণে দুই লাখ টাকার বরাদ্দ, মাটি-আগাছা কেটে কাজ শেষের অভিযোগ

Advertisement

Icon

বেলকুচি-চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩২ পিএম

রাস্তা নির্মাণে দুই লাখ টাকার বরাদ্দ, মাটি-আগাছা কেটে কাজ শেষের অভিযোগ

রাস্তা নির্মাণের নামে বালু বা নতুন মাটি আনা হয়নি, বরং সড়কটির সামান্য মাটি ও আগাছা কেটে সমান করে কাজ করা হয়েছে।

Advertisement

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে একটি রাস্তা নির্মাণের আগেই বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার মেটুয়ানী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসী ইউএনও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছিল দুই লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবে রাস্তা নির্মাণের নামে বালু বা নতুন মাটি আনা হয়নি, বরং সড়কটির সামান্য মাটি ও আগাছা কেটে সমান করে কাজ করা হয়েছে। এতে মাত্র ১৩ হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। এদিকে বাকি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

জানা যায়, টি-আর প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ডের একটি মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকার থেকে বাজেট বরাদ্দ হয়। কাজের দায়িত্বে প্রকল্প সভাপতি ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য এরশাদ আলম।

তবে কাজের গুণগতমান ও পরিমাণ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসী। তাদের দাবি, বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়নি, বরং প্রকল্পের নামে লোক দেখানো কাজ করে অধিকাংশ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, ভেবেছিলাম এই প্রকল্পের আওতায় রাস্তা ভালো হবে। কিন্তু কাজের কাজ তো কিছুই হয়নি। দেখে মনে হয় রাস্তা নির্মাণ শুধু নামেই হয়েছে। রাস্তার শুরুতে আগের মাটি একটু টেনে সমান করেছে। নতুন বালু-মাটি কিছুই দেয়নি। আমরা এই রাস্তার জন্য খুব ভোগান্তিতে আছি।

ধুকুরিয়াবেড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাজী মো. ফজলুল হক মন্ডল জানান, বালু বা নতুন মাটি কিছুই আনা হয়নি। রাস্তার মাটি কেটে হালকা সমান করে দিয়েছে। এটা স্পষ্ট টাকা আত্মসাৎ। আমরা আমাদের বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে রাস্তা চাই। এজন্য আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

তবে এসব বিষয়ে ইউপি সদস্য এরশাদ আলম মুঠোফোনে বলেন, বেলকুচি উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি হাজী রইচ উদ্দিন সরদার এমপির ডিও লেটারে দুই লাখ টাকার মাটির কাজ নেন। আমি ইউপি সদস্য হিসেবে কাজের সভাপতি। কাজ শুরু করার পরই বন্যা চলে আসে, এর জন্য কাজ শেষ হয়নি। তবে বাকি কাজ করা হবে।

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ও ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রত্যাশী হাজী রইচ উদ্দিন সরদার বলেন, এমপি দুই লাখ টাকার মাটির রাস্তার কাজ দিয়েছিলেন। দুই কিস্তিতে টাকা তুলে কাজ শেষ করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তালুকদার মেটুয়ানী গ্রামের একটি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের কাজের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। তদন্ত করে এলাকাবাসীর দেওয়া অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম